ইসলামে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মুখমৈথুন বা স্বমেহন

মুখমৈথুন

ইসলামে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মুখমৈথুনের ব্যপারে স্পষ্টভাবে কিছু বলা হয় নি। সে কারণে অনেক আলেমই এটির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ কিংবা বৈধতা প্রদান করা থেকে বিরত থেকেছেন।

আবার অনেক আলেম এটিকে মাকরুহ তাহরীমী বা অপছন্দনীয় মাকরুহ বলে স্বাব্যস্ত করেছেন। এর পেছনে কারণটি কুরআন ও হাদিসে একে উৎসাহিত করা হয় নি সে কারণে নয়, বরং তা হল শালীনতা, পবিত্রতা(ইসলামে ধর্মীয় রীতিনীতিগত পবিত্রতা বা তাহারাত) ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক দ্বন্দ্ব। এর পেছনে সবচেয়ে সাধারণ দাবিটি হল, যে, মুখ এবং জিহ্বা কুরআন পঠন ও ঈশ্বরের স্মরণে ব্যবহৃত হয়, তাই তা অপবিত্রতায় ব্যবহার করা উচিত নয়। চারটি সুন্নি মাজহাবের পণ্ডিতগণের মধ্যে বীর্য নিঃসরণ পবিত্র কিনা তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, কিছু পণ্ডিত একে অপবিত্র মনে করেন এবং কিছু পণ্ডিত করেন না।

স্বমেহন
মূল নিবন্ধ: ইসলাম ও হস্তমৈথুন

অধিকাংশ ইসলামী আইনবিদের মতে, হস্তমৈথুন বা স্বমেহন হল মাকরুহ বা অপছন্দনীয়। তবে হস্তমৈথুন নিয়ে ইসলামী পণ্ডিতগণের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে। কুরআনে হস্তমৈথুন নিয়ে কিছু বলা হয় নি, হাদিসে তা উল্লেখ থাকার দাবি করা হলেও উক্ত দাবি সর্বসম্মত নয়।

প্রাথমিকযূগের অধিকাংশ আলেমগণ একে নিষিদ্ধ বলেছেন এবং আল-তারিবিয়াহসহ পরবর্তী সময়ের কিছু আলেম ব্যভিচারের আশঙ্কা থাকলে বিকল্প হিসেবে এর অনুমতি দিয়েছেন। পূর্ব থেকেই একটি অভিমত প্রচলিত ছিল যে, ব্যভিচারে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকলে বিকল্প হিসেবে হস্তমৈথুনের অনুমতি দেয়া যেতে পারে। অর্থাৎ, প্রাথমিক ইসলামী যুগের সকল ইসলামী পণ্ডিতগণ এর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপে সর্বসম্মতভাবে রাজি ছিলেন না।

হস্তমৈথুনকারীদের মধ্যে যারা নিজ সতীত্ব রক্ষার জন্য হস্তমৈথুন করে এবং যারা সমস্যা না থাকা সত্ত্বেও আকাঙ্ক্ষাকে তৃপ্ত করতে হস্তমৈথুন করে, এই দুই দলকে ফিকহবিদগণ আলাদা আলাদা দৃষ্টিতে বিচার করে থাকেন। আহমদ ইবনে হাম্বলের মতে বৈধ যৌনসঙ্গীর অভাবে সমস্যায় ভুগছেন এমন নারী পুরুষ, মুসাফির ও বন্দীদের জন্য তা বৈধ। সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের মতে, সাধারণ অবস্থায় এটি অপছন্দনীয় এবং তারা এই প্রবণতাকে সংশোধনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *