কিছু মসলার ঔষধী গুন

এলাচের উপকারিতা

এলাচকে বলা হয় মসলার রানী। এলাচ সুগন্ধিযুক্ত একটি মসলা। খাবারে অতিরিক্ত স্বাদ বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয় এলাচ। রান্নার স্বাদ বাড়ানো ছাড়া ও এর রয়েছে বিভিন্ন ধরনের উপকারিতা। নিচে এলাচের উপকারিতা তুলে ধরা হলো :

  • আপনি কি মুখের দুর্গন্ধ, মাঢ়ি দিয়ে রক্তপাত অথবা দাঁত ক্ষয় হওয়ার মতো মারাত্মক সমস্যায় ভুগছেন? তাহলে কালো এলাচ মুখে নিয়ে চাবাতে পারেন। কেননা এলাচের তেল মুখের সমস্যা দূর করতে কার্যকর একটি ওষুধ।
  • এলাচ ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে। এ জন্য ক্যান্সার প্রতিরোধে নিয়মিত এলাচ খাওয়া উচিত।
  • শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সমস্যা হুপিংকাশি, ফুসফুস সংক্রমণ ও অ্যাজমার মতো সমস্যায় ভুগে থাকেন তাদের জন্য এলাচ খুবই উপকারী।
  • মাথাব্যথা থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তি পেতে এলাচ তেলের ব্যবহার করলে সুফল পাওয়া যায়।
  • এটি অনুভূতি নাশক ও অস্থিরতাকে প্রশমিত করে।
  • কালো এলাচ হার্ট সুস্থ রাখে, রক্তচাপ ও ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং রক্তসঞ্চালন বাড়ায়।
  • কালো এলাচ হৃদরোগ প্রতিরোধ করে, হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এ ছাড়া এলাচ রক্তসঞ্চালনে সহায়ক।
  • এতে থাকে ভিটামিন সি, যা রক্তসঞ্চালন ও ত্বক সমস্যা দূর করে।
  • রূপচর্চায় এর জুড়ি নেই, রূপচর্চা ও চেহারার কালো দাগ দূর করতে এলাচের জুড়ি নেই।

প্রকৃতির ওষুধ মৌরি

প্রাচীন গ্রিক ও রোমান সভ্যতায় মৌরিকে ওষুধ ও খাবার হিসেবে গ্রহণ করা হতো। গ্রিকরা এটি শরীরের ওজন কমানো এবং প্রসূতি মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করত।

মৌরির পুষ্টি ও ওষধিগুণ
মৌরি খনিজ লবণসমৃদ্ধ একটি বীজ। এতে কপার, আয়রন, পটাসিয়াম, সেলেনিয়াম, জিংক ও ম্যাগনেসিয়াম প্রচুর পরিমাণে আছে। এ ছাড়া আছে ভিটামিন এ, সি, ই এবং কয়েকটি বি ভিটামিন। মৌরি আঁশসমৃদ্ধ এবং এতে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ফ্ল্যাভনয়েড।
* মৌরি বায়ুরোগের জন্য উপকারী, তাই এটা জোলাপ বা ল্যাক্সিটেভ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। পানিমিশ্রিত মৌরির রস পেট ফাঁপা এবং পেট কামড়ের জন্য উপকারী।
* মৌরি হজমের গোলযোগ এবং পেটের গ্যাস কমাতে সাহায্য করে।
* এটা চোখের দৃষ্টিশক্তি এবং প্রসূতি মায়ের বুকের দুধ বাড়ায়।
* মৌরি মুখের প্রদাহ এবং ঠাণ্ডা সারাতে সাহায্য করে। মৌরির পাতা গরম পানিতে সিদ্ধ করে এর ধোঁয়া নিঃশ্বাসের সঙ্গে নিলে অ্যাজমা এবং ব্রঙ্কাইটিস থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
* মৌরি এবং এর পাতার নির্যাস কৃমিনাশক হিসেবে কাজ করে।
* মৌরির আঁশ কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
* এটি কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে সহায়তা করে।
* এটি স্ট্রোক এবং হার্টঅ্যাটাক প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।
* মৌরি শরীরের ওজন কমাতে এবং শরীরের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। মৌরির তেল মালিশ করলে জয়েন্টের ব্যথা কমে।

রোগ নিরাময়ে মৌরি
* সমপরিমাণ ভাজা মৌরি এবং চিনি নিয়ে গুঁড়া করে দুই ঘণ্টা পর পর ঠাণ্ডা পানির সঙ্গে দুই চামচ পরিমাণ মিশিয়ে খেলে পেটের অসুখ ভালো হয়।
* খাওয়ার পরনিয়মিত এক চা চামচ মৌরি হজম শক্তি এবং দৃষ্টিশক্তি বাড়িয়ে দেয়।
* চার চা চামচ মৌরি ২০০ মিলি পানিতে মিশিয়ে ১০০ মিলি না হওয়া পর্যন্ত সিদ্ধ করুন। এরপর ঠাণ্ডা করে পান করুন।
* রাতে ঘুমানোর আগে আধা চা চামচ মৌরি চূর্ণ কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে পান করুন। কোষ্ঠকাঠিন্য সেরে যাবে।
* সমপরিমাণ মৌরি এবং জিরা ভেজে নিয়ে বোতলে ভরে রাখুন। প্রতিদিন খাবারের পর এক চা চামচ করে চিবান, হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে।
* সামান্য ঘি বা মাখন দিয়ে মৌরি ভেজে বোতলে ভরে রাখুন। যখন ধূমপানের ইচ্ছা জাগবে আধা চা চামচ চিবান, নেশা কমে যাবে।

ভেষজ দাওয়াই তেজপাতা

তেজপাতা সুগন্ধি মসলা। কাঁচা পাতার রং সবুজ আর শুকনো পাতার রং বাদামি। এটি শুধু মসলা হিসেবেই পরিচিত নয়, এর অনেক ঔষধি গুণও আছে।
উপকারিতা
*পানিতে তেজপাতা দিয়ে সিদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে গোসল করলে ত্বকের অ্যালার্জি সমস্যা কমবে।
*৭ গ্রাম তেজপাতা ৪ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে ২ কাপ করে নিন। এরপর ওই পানি দিয়ে গড়গড়া করুন। গলাভাঙা দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে।
*প্রতিদিন রং চায়ের সঙ্গে তেজপাতা খেলে ত্বকের সতেজতা ঠিক থাকবে।
*চোখ ওঠা ও ফোড়া হলে তেজপাতা সিদ্ধ পানি ব্যবহার করলে উপকার পাবেন। এ ছাড়া ফোড়ার ওপর তেজপাতা বেটে প্রলেপের মতো করে দিলে ব্যথা কমবে।
*তেজপাতা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। তাই তেজপাতার গুঁড়া, শসা, মধু, দই ও লেবুর রস মিশিয়ে পেস্ট করে মুখে লাগান। ১০ মিনিট পর ধুয়ে নিন।
*যাঁদের সময় কম তাঁরা তেজপাতার গুঁড়া গোলাপজলে মিশিয়েও তা দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে পারেন।
*সাবানের পরিবর্তে তেজপাতা বাটা শরীরে মেখে গোসল করুন। এতে ময়লা পরিষ্কার হবে।
*তেজপাতা চূর্ণ দিয়ে দাঁত মাজলে মাড়ির ক্ষত দ্রুত চলে যাবে।

হলুদ

হলুদের গুঁড়া অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ। উপরন্তু শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি গুণও আছে হলুদে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, আলঝেইমার প্রতিরোধে হলুদ অত্যন্ত কার্যকর। আলঝেইমার মস্তিষ্কের রোগ। এ রোগে আক্রান্ত রোগীর প্রাথমিক লক্ষণ—ভুলে যাওয়া। তবে একেকজনের ক্ষেত্রে এ রোগের লক্ষণ আলাদা হতে পারে। গবেষণায় আরও জানা যায়, যাঁরা তরকারিতে প্রতিদিন হলুদ খান, তাঁদের আলঝেইমার হওয়ার শঙ্কা কমে যায় অন্যদের তুলনায় ২৫ শতাংশ।

হলুদ বা হলদি হলো হলুদ গাছের শিকড় থেকে প্রাপ্ত এক প্রকারের মশলা। ভারত , বাংলাদেশ এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের রান্নায় এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এটি আদা পরিবারের অন্তর্গত একটি গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ।
হলুদ গাছের আদি উৎস দক্ষিণ এশিয়া। এটি ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে জন্মে থাকে। হলুদ গাছের জন্য প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাতের দরকার হয়। বছরে সাধারণত একবার হলুদ গাছের শিকড় তোলা হয়। পরের বছর পুরানো শিকড় থেকে নতুন গাছ গজায়।
হলুদ গাছের শিকড়কে কয়েক ঘণ্টা সিদ্ধ করা হয়, তার পর গরম চুলায় শুকানো হয়। এরপর এই শিকড়কে চূর্ণ করে গাঢ় হলুদ বর্ণের গুঁড়া পাওয়া যায়। এই হলুদ গুড়া দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের নানা দেশের খাদ্য প্রস্তুতে ব্যবহার করা হয়। তবে ঐতিহ্যগতভাবে এই শিকড় ভালোভাবে ধৌতকরণের পর শিল-পাটায় পানি সহযোগে বেটে নিয়ে হলুদের লেই তৈরি করা হয় যা সরাসরি রান্নায় ব্যবহার করা হয়।

হলুদের গুনাবলিঃ

* সাধারণ কাঁটাছেঁড়ায় হলুদ এন্টিসেপ্টিকের কাজ করে।
*মুখে জ্বালা-পোড়া করলে গরম পানির মধ্যে হলুদের পাউডার মিশিয়ে কুলকুচি করুন।
*শরীরের কোনো অংশ পুড়ে গেলে পানির মধ্যে হলুদের পাউডার মিশিয়ে লাগাতে পারেন।
*সূর্যের তাপে গা জ্বলে গেলে হলুদের পাউডারের মধ্যে বাদামের চূর্ণ এবং দই মিশিয়ে লাগান।
*সর্দি-কাশি হলে হলুদ খেতে পারেন। কাশি কমাতে হলে হলুদের টুকরা মুখে রেখে চুষুন। এছাড়া এক গ্লাস গরম দুধের মধ্যে হলুদের গুঁড়ো এবং গোলমরিচ গুঁড়ো মিশিয়ে পান করুন।
*আয়ুর্বেদিক মতে, হলুদ রক্ত শুদ্ধ করে।
*হলুদের ফুলের পেস্ট লাগালে চর্ম রোগ দূর হয়।
*এটি চেহারার সৌন্দর্য বাড়াতেও সাহায্য করে। হলুদের সঙ্গে চন্দন মিশিয়ে মুখে লাগালে ত্বক উজ্জ্বল হয়।
*হলুদের মধ্যে ফিনোলিক যৌগিক কারকিউমিন রয়েছে যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
*হলুদ মোটা হওয়া থেকে বাঁচায়। হলুদে কারকিউমিন নামে এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে যা শরীরে খুব তাড়াতাড়ি মিশে যায়। শরীরের কলাগুলোকে বাড়তে দেয় না।
*গা ব্যথা হলে দুধের মধ্যে হলুদ মিশিয়ে খেতে পারেন। জয়েন্টের ব্যথা হলে হলুদের পেস্ট তৈরি করে প্রলেপ দিতে পারেন।
*যখন ফুলকপির সাথে হলুদ মিশিয়ে খাওয়া হয় তখন তা গ্লান্ড ব্লাডারে ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
*ব্রেস্ট ক্যন্সার লাংস পর্যন্ত যাতে ছড়াতে না পারে তা প্রতিরোধ করে হলুদ।
*এটা শৈশবে লিউকমিয়ার ঝুঁকি কমায়।
*চাইনিজরা বিষণ্ণতা কমাতে অনেক আগে থেকেই হলুদের ভেষজ চিকিৎসা করে আসছে।
*ক্ষতিগ্রস্থ ত্বক বা যাদের ত্বকে অ্যালার্জির প্রকোপ বেশি তা কমাতে এবং নতুন কোষ গঠনেও হলুদ উপকারী।
*লিভার ড্যামেজ যা একসময় সিরোসিসে রূপ নেয় তা প্রতিরোধে হলুদের উপকার অনস্বীকার্য।
*রিসার্চে প্রমাণিত হয়েছে, হলুদের মাধ্যমে পুর্ব চিকিৎসা নেয়া হলে তা ক্যান্সার সেল কে দুর্বল করে দেয় এবং এতে করে ক্যন্সার সহজে ছড়াতে পারেনা।
*গা ব্যথা হলে দুধের মধ্যে হলুদ মিশিয়ে খান আরাম পাবেন৷ জয়েন্টের ব্যথা হলে হলুদের পেস্ট তৈরি করে লেপ লাগান৷
*গলায় ব্যাথা হলে কাচা হলুদ আদার সঙ্গে পিষে তার গুড় মিশিয়ে গরম করুন৷ তারপরে সেটা খান গলা ব্যথা কমে যাবে৷
*ঘা এর মধ্যে হলুদের লেপ লাগান৷ ঘা তাড়াতাড়ি সেরে যাবে৷

সেইজ

সেইজ ধূসর পত্রবিশিষ্ট উদ্ভিদ। উদ্ভিদটি স্মরণশক্তি বাড়াতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া আলঝেইমার প্রতিরোধেও সক্ষম উদ্ভিদটি। মস্তিষ্কের অ্যাসিটাইল কোলাইনের সুরক্ষায়ও কাজ করে। এই উদ্ভিদটি ডিম, টমেটো সস, ঝলসানো মুরগিতে ভারি উপাদেয়। চাইলে ওষুধ হিসেবে শুকনো সেইজ চায়ের সঙ্গেও খাওয়া যায়।

ওয়াসাবি

উদ্ভিদটি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় জাপানে, বিশেষ করে পাহাড়ি উপত্যকায়। ওয়াসাবি স্নায়ুকোষ বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর, বিশেষ করে এটি অ্যাক্সন ও ডেনড্রাইটের মধ্যে সংযোগ দৃঢ় করে। উদ্ভিদটি খাওয়া হয় সাধারণত মাছ, বাদাম, সালাদ আর কাঁকড়ার সঙ্গে।

লবঙ্গ

লবঙ্গ খুবই ঝাঝালো, উপাদেয়, ঘ্রাণময় একটি মসলা। মূলত ইন্দোনেশিয়ায় এর জন্ম। তবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ঘুরে বিশ্বের সর্বত্র এই মসলা ছড়িয়ে পড়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় এর আদিবাস হলেও্ বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকায় সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হয়। এর রয়েছে যথেষ্ট পুষ্টিগুণ। সাধারণত রান্নার সময় এই মসলাটি ফোড়ন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শুধু মসলা নয় ওষুধ হিসেবেও লবঙ্গের বেশ গুরুত্ব আছে। এতে ২০-২৫ শতাংশ ক্লোভ তেল এবং ১০-১৫ শতাংশ টাইটার পেনিক এসিড থাকে, যার ফলে এটা খেতে ঝাঁজালো। এর আরেক নাম “লং”। মার্চ থেকে জুন মাসের ভেতরে ফুল থেকে ফল হয়। পাকার আগেই বৃতিসহ ফুলের কুঁড়ি সংগ্রহ করা হয়। আর তা রোদে শুকিয়ে আমাদের পরিচিত লবঙ্গ তৈরি হয়। লবঙ্গ গাছ ৩০ থেকে ৪০ ফুট উঁচু হতে পারে। চিরসবুজ, বহুসংখ্যক নরম ও নিম্নগামী ডাল চারদিক ছড়িয়ে পড়ে। ছাল ধূসর বর্ণ ও মসৃণ। পাতা সরল ও বিপরীত। উপবৃত্তাকার, পাঁচ ইঞ্চির মতো লম্বা। কচি পাতা লালচে। ফল মাংসল, প্রায় এক ইঞ্চি লম্বা।

নামকরণ:
বাংলায়: লবঙ্গ বা লং
ইংরেজী: Clove
বৈজ্ঞানিক নাম: Syzygium aromaticum
গোত্র: Myrtaceae।

লবঙ্গের আরও যেসব গুণ রয়েছে তা হলো_
১. কফ ও কাশি দূর করে
২. খিদে বাড়ায়, রুচীর পরিবর্তণ আনে।
৩. কৃমি জাতীয় রোগ প্রতিরোধ করে।
৪. এটা পচনরোধক।
৫. এটা শরীরে উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে।
৬. গলার সংক্রমণরোধক হিসেবে কাজ করে।
৭. যৌন রোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য খুবই উপকারি।
৮. দাতের ব্যাথায় দারুণ কার্যকর।
৯. বমিভাব কমায়।
১০. পায়োরিয়ার ক্ষেত্রে উপকারী।
১১. ক্রিয়েটিভিটি এবং সেন্টাল ফোকাস বাড়ায়।
১২. লবঙ্গ তেলের রয়েছে ব্যকটেরিয়া নামক জিবানু ধ্বংসের ক্ষমতা।

আদার  উপকারিতা

আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে আদা অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি ভেষজ। অল্প পরিমাণ নিয়মিত কাঁচা আদা খাওয়ার অভ্যাসের নানা প্রকার উপকারী দিক রয়েছে। কাঁচা আদা চিবিয়ে ও রস করে মধুর সাথে এবং রান্নায় ব্যবহার করা ছাড়াও আদা বিভিন্নভাবে খাওয়া যেতে পারে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো থেকে শুরু করে শরীরের বেশ কিছু সমস্যা প্রতিরোধ ও নিরাময় করে আদা।

আদার ১২টি উপকারিতার কথা জেনে নেইঃ

১) পরিমিত আদা খাওয়ার অভ্যাসে রক্ত-সঞ্চালন স্বাভাবিক হয়। আদায় রয়েছে ক্রোমিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও জিঙ্ক। এ উপাদানসমূহ রক্ত প্রবাহের প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে।
২) যানবাহনে চড়ার সময় কেউ কেউ অস্বস্তিতে ভোগেন বা কিছুক্ষণ গাড়িতে থাকার পর বমির প্রবণতা চলে আসে। আদা এক্ষেত্রে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
৩) খাবার খাওয়ার পর পুষ্টি-উপাদানসমূহ যদি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও কোষগুলোতে পরিপূর্ণভাবে না পৌঁছায়, সেক্ষেত্রে নানা রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পুষ্টি উপাদানগুলো শোষণ করার ক্ষেত্রে আদা কোষসমূহকে সহায়তা করে।
৪) ঠাণ্ডা লাগা ও ভাইরাস জ্বর প্রতিরোধে আদা বিশেষ ভূমিকা রাখে। আদার রস একটু গরম করে সমপরিমান মধুর সাথে মিশিয়ে দিনে ৩/৪ বার সেবন করলে ঠাণ্ডা লাগা ও ভাইরাস জ্বর নিরাময় ও প্রতিরোধে এক অব্যার্থ মহৌষধ। এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে হাজার হাজার বছর ধরে প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন রোগ-প্রতিরোধ বা নিরাময়ের ক্ষেত্রে আদার ব্যবহার চলে আসছে।
৫) পেটের অস্বস্তি বা পীড়ায় আদা একটি আদর্শ পথ্য। হজমে সহায়তার পাশাপাশি খাবারের গুণাগুণ শরীরের বিভিন্ন অংশে পৌঁছে দিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখে আদা। কিছু খাদ্যদ্রব্য খাওয়ার পর পেটব্যথায় ভোগার সমস্যা থাকলে, সেটা দূর হয়ে যাবে। পেটে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণও প্রতিরোধ করে এটি।
৬) আদা কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে।
৭) ব্যথা ও শরীরে যে কোন ধরনের প্রদাহ কমাতে কাজ করে আদা। প্রাকৃতিকভাবেই এতে রয়েছে ব্যথানাশক উপাদান।
৮) ফুসফুসের সাধারণ যে কোন সংক্রমণ বা রোগের ক্ষেত্রে আদা বেশ কার্যকরী। সর্দি-কাশি, শ্বাস-প্রশ্বাসের সাধারণ সমস্যা দূর করে আদা। গলা ও স্বরতন্ত্রী পরিস্কার রাখে।
৯) ওভারিয়ান ক্যান্সারের চিকিৎসায় আদা অন্যতম ভূমিকা রাখে।
১০) প্রতিদিন নিয়মিত সামান্য আদা খাওয়ার অভ্যাস আপনার শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বিভিন্ন রোগে অক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুলাংশে কমে আসে।
১১) স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমায় আদা।
১২) সকালে কেউ কেউ অসুস্থ বোধ করেন। নিয়মিত আদা খান। এ সমস্যা থেকে অচিরেই নিষ্কৃতি পাবেন।

কাঁচা আদার কত গুণ!

এক নজরে দেখে নিই কি গুন আছে আদায় …

» আদার রস শরীর শীতল করে এবং হার্টের জন্য উপকারী।
» কাশি এবং হাঁপানির জন্য আদার রসের সাথে মধু মিশিয়ে সেবন করলে বেশ উপশম হয়।
» ঠান্ডায় আদা ভীষণ উপকারী। এতে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট, যা শরীরের রোগ-জীবাণুকে ধ্বংস করে। জ্বর জ্বর ভাব, গলাব্যথা ও মাথাব্যথা দূর করতে সাহায্য করে।
» বমি বমি ভাব দূর করতে এর ভূমিকা অপরিহার্য। তাই বমি বমি ভাব হলে কাঁচা আদা চিবিয়ে খেতে পারেন। এতে মুখের স্বাদ বৃদ্ধি পায়।
» অসটিও আর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস-এই অসুখগুলোয় সারা শরীরের প্রায় প্রতিটি হাড়ের জয়েন্টে প্রচুর ব্যথা হয়। এই ব্যথা দূর করে আদা। তবে রান্না করার চেয়ে কাঁচা আদার পুষ্টিগুণ বেশি।
» মাইগ্রেনের ব্যথা ও ডায়াবেটিসজনিত কিডনির জটিলতা দূর করে আদা। গর্ভবতী মায়েদের সকালবেলা, বিশেষ করে গর্ভধারণের প্রথম দিকে সকালবেলা শরীর খারাপ লাগে। কাঁচা আদা দূর করবে এ সমস্যা।
» দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, আদার রস দাঁতের মাড়িকে শক্ত করে, দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা জীবাণুকে ধ্বংস করে।
» দেহের কোথাও ক্ষতস্থান থাকলে তা দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে আদা। এতে রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি এজেন্ট, যা যেকোনো কাটাছেঁড়া, ক্ষতস্থান দ্রুত ভালো করে।
» রক্তের অনুচক্রিকা এবং হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম ঠিক রাখতেও আদা দারুণ কার্যকর। মুখের রুচি বাড়াতে ও বদহজম রোধে আদা শুকিয়ে খেলে বাড়বে হজম শক্তি।
» আমাশয়, জন্ডিস, পেট ফাঁপা রোধে আদা চিবিয়ে বা রস করে খেলে উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া যারা গলার চর্চা করেন তাদের গলা পরিষ্কার রাখার জন্য আদা খুবই উপকারী।
» ঠান্ডায় টনসিলাইটিস, মাথাব্যথা, টাইফয়েড জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হওয়া, বসন্তকে দূরে ঠেলে দেয় আদা। ওভারির ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করে আদা।

পেঁয়াজের পুষ্টি ও ভেষজগুন

স্বাস্থ্য রক্ষায় পেঁয়াজের গুণাগুণ অনেক। আমাদের হাতের নাগালে থেকেও আমরা এর অনেক গুণ সম্পর্কে ভাল করে জানি না। আসুন পেঁয়াজের পুষ্টি ও ভেষজগুনাগুনাবলী জেনে নেয়া যাক-

সাধারণত একটি বড় মাপের পেঁয়াজে আছে–
৮৬.৮ শতাংশ পানি, ১.২ শতাংশ প্রোটিন, ১১.৬ শতাংশ শর্করা জাতীয় পদার্থ, ০.১৮ শতাংশ ক্যালসিয়াম, ০৪ শতাংশ ফসফরাস ও ০.৭ শতাংশ লোহা থাকে। এছাড়া পেঁয়াজে থাকে ভিটামিন এ, বি ও সি।

স্বাস্থ্যতথ্য–
০ ঠান্ডা লেগে মাথা ব্যথা হলে ১ চামচ পেঁয়াজের রসের সাথে দ্বিগুণ পানি মিশিয়ে একবার খেলে ব্যথা কমে যাবে।
০ বার বার বমি হলে চার-পাঁচ ফোঁটা পেঁয়াজের রস পানিতে মিশিয়ে সেই পানি খেলে বমি হওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।
০ পেঁয়াজের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণাগুণ রয়েছে। তাই ফোঁড়া বা ঘা হলে তা পেঁয়াজের রস দিয়ে ধুলে তাড়াতাড়ি সেরে যায়। এছাড়া পোকামাকড়ে সৃষ্ট ক্ষতস্থানে পেঁয়াজের রস সমান কার্যকরী।
০ একটুকরো পেঁয়াজ কপালের উপর রেখে দিলে তা জ্বরের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দূর করে।
০ হেঁচকি উঠলে পেঁয়াজের রস মিশানো পানি খেলে হেঁচকি উঠা বন্ধ হয়ে যাবে।
০ জ্বর জ্বর ভাব হলে পেঁয়াজের রস নাক দিয়ে টেনে নিলে জ্বর জ্বর ভাব চলে যাবে।
০ পেঁয়াজ খাদ্য হজমে সহায়তা করে।
০ শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বৃদ্ধির মাধ্যমে পেঁয়াজ রক্তে সুগার এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন করে। এছাড়া কোলেস্ট্রলের মাত্রা কমিয়ে হৃ্দপিন্ড সুস্থ্য রাখে।
০ বাত ব্যথার রোগীরা নিয়মিত পেঁয়াজ খেলে ব্যথা কম থাকবে। তিলের তেল বা ক্যাস্টর ওয়েলের সাথে পেঁয়াজ হাল্কা ভেজে ব্যবহার করলে শরীরের বিভিন্ন ব্যথা উপশমে সহায়তা করে।
০ ছোট একটুকরো পেঁয়াজের রস নাক দিয়ে টেনে নিলে তা নাক দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ করে বা কমিয়ে দেয়।
০ ঘুমের সমস্যা বা ইনসমনিয়ার ক্ষেত্রে প্রতিদিন একটি পেঁয়াজ খাদ্য হিসেবে গ্রহন করা গেলে তা ঘুমের সমস্যা দূর করে দেয়।
০ পেঁয়াজ দাঁতের ক্ষয় রোধ করে।
০ কিছু প্রজাতির কালো তিল দূরীকরনে পেঁয়াজ কাজে দেয়
০ কাঁচা পেঁয়াজ অনিয়মিত ঋতুস্রাবের সমস্যা দূর করে।
০ পেঁয়াজ স্মৃতি শক্তি বাড়ায় এবং স্নায়ুবিক দুর্বলতা দূর করে।
০ পেঁয়াজ খেলে শরীরের অতিরিক্ত ইউরিক এসিড বের হয়ে যায়।
০ চুল ধোবার আগে মাথায় আধঘন্টা পেঁয়াজের রস মেখে রাখলে চুলের গোড়া শক্ত হয় এবং নতুন চুল গজাতে সহায়তা করে।

সরিষার তেলের গুনাগুণ

সরিষার তেল এন্টি ব্যাকটেরিয়াল তেল শীতের সময় সরিষার তেলের মালিশ শরীর কে উষ্ণ রাখে । নিয়মিত এই তেল মালিশ করলে বাতের ব্যাথায় উপকার পাওয়া যায় । এ ছাড়াও সাধারণ সর্দি কাশি , ব্যাথায় তে এই তেলের ব্যবহার উপকারী।

অন্যান্য গুনাগুণঃ
১.শরীরের কলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয় যা হৃদরোগের সম্ভবনা হ্রাস করে
২.নিদ্রাহীনতা এবং ক্যান্সার প্রতিরোধক
৩.সন্ধিস্থলের ব্যাথা হ্রাস করে
৪.শ্বাস কস্টের প্রদাহ হ্রাস করে
৫.চুলের মান উন্নত করা , খুসকি দূর করে এবং চুল বৃদ্ধি করে
৬.মাথা ব্যথা কমায়
৭.দাঁত মজবুত করে এবং ব্যাথা কমায়
৮.শুষ্ক ত্বক মসৃণ ও কোমল করে
৯.ঠোঁটের শুস্কতা দূর করে এবং ত্বকের প্রদাহ দূর করে
১০.কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
১১.নাকের বদ্ধভাব দূর করে
১২.কানের ব্যাথায় কানের ড্রপের বিকল্প
১৩.সামান্য কাটা ছেঁড়ায় এন্টিসেপটিক এর কাজ করে

রসুন এর গুণাগুণ

রসুন  এক দারুণ পেনিসিলিন জাতীয় মসলা। আমরা নিত্যদিন বিভিন্ন তরকারীতে মসলা হিসেবে ব্যবহার করে থাকি এই মসলাটি। কিন্তু আমরা হয়তো অনেকেই জানি না এর গুণাগুণ মাত্রা কতখানি। আপনি অবাক হয়ে যাবেন যদি জানেন যে এই রসুন মানুষের দেহে এমন কোনো রোগ বালাই নেই যার প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে না। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ ওয়েবসাইট ‘মেডলাইন প্লাস’ জানিয়েছে, বিশ্বের অসংখ্য মানুষ কোলন, রেক্টাল, পাকস্থলী, ব্রেস্ট, প্রোস্টেট, মূত্রথলি ও ফুসফুসের ক্যান্সার প্রতিরোধে রসুন ব্যবহার করে থাকেন।
মিনারেলস সমৃদ্ধ মসলা রসুন। এর পরিমাণ এত বেশি যে কারো কারো কাছে এটি মিনারেলসের মিনি স্টোর হিসেবে পরিচিত। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফসফরাস, অ্যালুমিনিয়াম, ক্যালসিয়াম, রিবোফ্লাভিন, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, ক্লোরিন, সেলেনিয়াম, জিংক ও ভিটামিন ‘সি’। এটি চমৎকার অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টি-ফাংগাল, অ্যান্টি-ভাইরাল হিসেবে কাজ করে, যা আমাদের বিভিন্ন রোগবালাই থেকে দূরে রাখে।
১. প্রতিরোধক ও প্রতিষেধক : রসুনে থাকা ভিটামিন ‘সি’র কথা বিশেষভাবে বলতে হয়। কেননা এই ভিটামিন স্কার্ভি রোগের প্রতিরোধক ও প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। একই সঙ্গে তা রক্তনালি নমনীয় রাখে।
২. রক্ত চলাচলে সহায়তা : রসুনে ‘অ্যাজোইন’ নামক এক রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে। এ পদার্থ নির্বিঘেœ রক্ত চলাচলে সহায়তা করে। পাশাপাশি রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করে। একই সঙ্গে রক্তের কোলেস্টরেল কমাতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
৩. হরমোন নিঃসরণ : রসুনে থাকা সালফার আমাদের শরীরের নানা হরমোন নিঃসরণ করতে সহায়তা করে।
৪. হৃদরোগজনিত সমস্যা : হৃদজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভীষণ কার্যকর এ ভেষজ। ডাক্তারি পরীক্ষায় প্রমাণিত, এটি উচ্চ রক্তচাপও কমিয়ে দেয়।
৫. রোগজীবাণু ধ্বংস : রসুনে থাকা ‘অ্যালিসিন’ পদার্থ ক্ষত সারাতে ভূমিকা রাখে। তাছাড়া পদার্থটি যক্ষা, আমাশয়, টাইফয়েড প্রভৃতির রোগজীবাণু ধ্বংস করে।
৬. ঠান্ডা কমায় : ঠান্ডা লাগা, গলা বসে যাওয়া কিংবা গলাব্যথা, মাথাব্যথা, গেঁটে বাত, হাঁপানি, ব্রংকাইটিসের সমস্যায় রসুন চিবিয়ে খেলে এ ধরণের সমস্যাগুলো একেবারেই থাকে না।
৭. ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে : ডায়াবেটিকদের জন্য উপকারী মসলা এই রসুন। এটি ব্লাড সুগার কমিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে।
৮. হজমের সমস্যা দূর করে : লিভারের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় এবং হজমের সমস্যা দূর করে এ ঔষধি। অ্যালার্জি সারিয়ে তুলতে এর ভূমিকা সুবিদিত।
৯. ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে আনে : অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন ফুড পয়জনিং নিবারণ করে এ মসলা।
১০. পুরুষের সুস্থ স্পার্ম তৈরি : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, প্রতি মিলিলিটার শুক্রাণুতে ২০ মিলিয়নের কম স্পার্ম থাকলে যেকোনো পুরুষ অনুর্বর হতে পারেন। বাজে খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, অ্যালকোহল, অনিয়ন্ত্রিত জীবন, ব্যায়ামে অনীহা প্রভৃতি কারণে দিন দিন অনুর্বরতা বাড়ছে। এক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক মসলা রসুন। কেননা সুস্থ স্পার্ম তৈরিতে রসুনের জুড়ি মেলা ভার।

রসুন খেলে যৌনতা বৃদ্ধি পায়

অনেকের দেখাযায় অতিরিক্ত মাত্রায় শারীরিক মেলামেশা করার ফলে শুক্র সল্পতা দেখা দেয় অর্থাৎ শুক্রাণুর মাত্রা কমে যায় এবং semen (বীর্য) পাতলা হয়ে যায়। আপনার শরীররে যদি শুক্রাণুর মাত্রা কমে যায় তবে আপনি অনেক সময় সন্তান জন্ম দিতে অক্ষম হতে পারেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, প্রতি মিলিলিটার শুক্রাণুতে ২০ মিলিয়নের কম স্পার্ম থাকলে যেকোনো পুরুষ অনুর্বর হতে পারেন। বাজে খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, অ্যালকোহল, অনিয়ন্ত্রিত জীবন, ব্যায়ামে অনীহা প্রভৃতি কারণে দিন দিন অনুর্বরতা বাড়ছে। এক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক মসলা রসুন। কেননা সুস্থ semen (বীর্য) তৈরিতে রসুনের জুড়ি মেলা ভার।
যৌন অক্ষমতার ক্ষেত্রে রসুন খুব ভালো ফল দিয়ে থাকে৷ রসুন কে ‘গরীবের পেনিসিলিন’ বলা হয়৷ কারণ এটি অ্যান্টিসেপ্টিক এবং immune booster হিসাবে কাজ করে আর এটি অতিঅ সহজলভ্য সব্জী যা আমারা প্রায় প্রতিনিয়ত খাদ্য হিসাবে গ্রহন করে থকি৷ আপনার যৌন ইচ্ছা ফিরে আনার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার খুবই কার্যকরী৷ কোন রোগের কারণে বা দুর্ঘটনায় আপনার যৌন ইচ্ছা কমে গেলে এটি আপনাকে তা পুনরায় ফিরে পেতে সাহায্য করে৷এছাড়া যদি কোন ব্যক্তির যৌন ইচ্ছা খুব বেশী হয় বা তা মাত্রাতিরিক্ত হয় যার অত্যধিক প্রয়োগ তার নার্ভাস সিস্টেমের ক্ষতি করতে পারে এমন ক্ষেত্রে ও রসুন খুব ই কার্যকরী৷
সেবন বিধিঃ
প্রতিদিন নিয়ম করে কয়েক কোয়া কাঁচা রসুন খেলে শরীরের যৌবন দীর্ঘ স্থায়ি হয় । যারা পড়ন্ত যৌবনে চলে গিয়েছেন, তারা প্রতিদিন দু’কোয়া রসুন খাঁটি গাওয়া ঘি-এ ভেজে মাখন মাখিয়ে খেতে পারেন। তবে খাওয়ার শেষে একটু গরম পানি বা দুধ খাওয়া উচিত। এতে ভালো ফল পাবেন।
যৌবন রক্ষার জন্য রসুন অন্যভাবেও খাওয়া যায়। কাঁচা আমলকির রস ২ বা ১ চামচ নিয়ে তার সঙ্গে এক বা দুই কোয়া রসুন বাটা খাওয়া যায়। এতে স্ত্রী-পুরুষ উভয়ের যৌবন দীর্ঘস্থায়ি হয়।

সাবধানতাঃ
যাদের শরীর থেকে রক্তপাত সহজে বন্ধ হয় না, অতিরিক্ত রসুন খাওয়া তাদের জন্য বিপদ জনক। কারণ, রসুন রক্তের জমাট বাঁধার ক্রিয়াকে বাধা প্রদান করে। ফলে রক্তপাত বন্ধ হতে অসুবিধা হতে পারে। তা ছাড়া অতিরিক্ত রসুন শরীরে এলার্জি ঘটাতে পারে। এসব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত রসুন না খাওয়াই উত্তম। রসুন খাওয়ার ফলে পাকস্থলীতে অস্বস্তি বোধ করলে রসুন খাওয়া বন্ধ রাখুন। শিশুকে দুগ্ধদানকারী মায়েদের রসুন না খাওয়াই ভালো। কারণ রসুন খাওয়ার ফলে তা মায়ের দুধের মাধ্যমে শিশুর পাকস্থলীতে ঢুকে শিশুর যন্ত্রণার কারণ ঘটাতে পারে।

রসুন আমাদের অতি পরিচিত এবং অতি ব্যবহৃত মশলা হলেও এর অনেক গুন সম্পর্কে আমরা এখনও জানিনা। এটি ভেষজ উপাদানে পূর্ন একটি স্বাস্থ্যকর খাবার।

উপকারিতাঃ

১. ভাইরাস, ক্ষতিকারক অণুজীব ও ছত্রাক নির্মূলকারী একটি খাদ্য-উপকরণ রসুন। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এটি ব্যাকটেরিয়া নির্মূলে ব্যবহৃত হয়েছে। একটি মাঝারি সাইজের রসুনে ১ লাখ ইউনিট পেনিসিলিনের সমান অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যক্ষমতা রয়েছে।
২. ব্যাকটেরিয়া ও প্রোটোজোয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি অ্যামিবিক ডিসেনট্রি নির্মূলের ক্ষেত্রে রসুন বেশ কার্যকরী।
৩. শরীরের রোগ সংক্রমণ দূর করার জন্য একসাথে তিন কোয়া রসুন দিনে তিন থেকে চারবার চিবিয়ে খান।
৪. রক্তের চাপ ও রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর জন্য প্রতিদিন তিন থেকে ১০ কোয়া রসুন খেতে পারেন।
৫. উচ্চরক্তচাপ ও রক্তের কোলেস্টরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগ প্রতিরোধে রসুনের ভূমিকা অপরিসীম। রসুন রক্ত জমাট নিরোধী অ্যাসপিরিনের মতোই শক্তিশালী।
৬. রসুন খেতে হলে কাঁচা রসুন চিবিয়ে খেতে হবে। চিবিয়ে না খেলে রসুনের রাসায়নিক উপাদান এলিসিন নির্গত হবে না। এলিসিনই হচ্ছে শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক। অ্যান্টিবায়োটিক ক্ষমতা কাজে লাগানোর জন্য কাঁচা রসুন চিবিয়ে খাওয়াই উত্তম।
৭. রসুন রক্তে চিনির মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করে। টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের জন্য রসুন বেশ উপকারী।
৮. রসুন ভেজে খাওয়া যেতে পারে। আর, তাতে রসুনের গুণাগুণ তেমন একটা ক্ষুন্য হয় না।
৯. ঠাণ্ডা বা সর্দি লাগা ও ভাইরাস জ্বরে রসুন খান। কাঁচা, ভাজা অথবা স্যুপ কিংবা সালাদে মিশিয়ে রসুন খেতে পারেন।
১0. রসুন নখের ভঙ্গুরতা রোধ করে। কাঁচা রসুনের রস নখে লাগালে নখ শক্ত হয়।
১১. গবেষনা হতে দেখা গেছে রসুনে ক্যান্সার প্রতিরোধক অনেক উপাদান আছে।

সতর্কতাঃ

– যাদের শরীর থেকে রক্তপাত সহজে বন্ধ হয় না, অতিরিক্ত রসুন খাওয়া তাদের জন্য বিপজ্জনক। রসুন রক্তের জমাট বাঁধার ক্রিয়াকে বাধা প্রদান করে। ফলে রক্তপাত বন্ধ হতে অসুবিধা হতে পারে।
– অতিরিক্ত রসুন শরীরে এলার্জি ঘটাতে পারে। এসব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত রসুন না খাওয়াই উত্তম।
– রসুন খাওয়ার ফলে পাকস্থলীতে অস্বস্তি বোধ করলে রসুন খাওয়া বন্ধ রাখুন।
-শিশুকে দুগ্ধদানকারী মায়েদের রসুন না খাওয়াই ভালো। কারণ রসুন খাওয়ার ফলে তা মায়ের দুধের মাধ্যমে শিশুর পাকস্থলীতে ঢুকে শিশুর যন্ত্রণার কারণ ঘটাতে পারে।

দারুচিনির গুনাগুণ 

আমাদের দেশে রান্নায় মূলত সুঘ্রান আনার জন্য এবং স্বাদ বৃদ্ধির জন্য দারুচিনি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এটি যে পুষ্টি ও ভেষগুন সম্পন্ন একটি মাজাদার মশলা তা আমাদের অনেকেরই অজানা। আসুন এবার তাহলে দারুচিনির পুষ্টিগুন এবং স্বাস্থ্যরক্ষায় এর উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

পুষ্টি উপাদানঃ
এক চা চামচ দারুচিনিতে আছে Manganese -0.33mg , Iron- 0.76 mg ,Calcium -24.56 mg এবং Fiber(আঁশ)।

উপকারিতাঃ
১. প্রতিদিন আধা চা চামচ দারুচিনির গুড়ো রক্তে খারাপ কোলস্টেরল এলডিএল এর মাত্রা কমায়।
২. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য খুবই উপকারী।
৩. ঈস্ট/ছত্রাক ঘটিত ইনফেকশন প্রতিরোধ করে।
৪. মরন ব্যাধি লিম্ফোসাইটিক লিউকোমিয়ার বিস্তার রোধ করে।
৫. রক্ত জমাট না বাঁধার অসুখ হিমোফিলিয়া প্রতিরোধ করে।
৬. প্রতিদিন নাস্তায় আধা চামচ দারুচিনির গুড়ো এক চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে বাত ব্যথা দূর হয়।
৭. রান্নায় দারুচিনির ব্যবহার খাবারকে দীর্ঘক্ষণ সংরক্ষণে সহায়তা করে।
৮. দারুচিনির ঘ্রাণ স্মৃতি শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
৯. এন্টিব্যাক্টেরিয়াল গুনাগুন থাকায় দারুচিনি দাঁতের ব্যাক্টেরিয়া জনিত ক্ষয়,ক্ষত মাড়ীর ক্ষত ইত্যাদি দূর করে এবং নিঃশ্বাস সতেজ রাখে।
১০. দারুচিনিতে রয়েছে cinnamaldehyde নামক উপাদান যা progesterone নামক হরমোন বৃদ্ধি করে, হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং মেয়েদের ঋতুস্রাবকালীন ব্যথা উপশম করে।
১১. দারুচিনিতে উচ্চমাত্রার এন্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এন্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ক্ষতিকারক ফ্রি র‌্যাডিকেলস হ্রাস করে, ফ্রি র‌্যাডিকেলস ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কোষ বৃদ্ধির জন্য দায়ী। এছাড়া এন্টিঅক্সিডেন্ট বার্ধক্যের ছাপ কমিয়ে যৌবন ধরে রাখতে সহায়তা করে।
১২. ঠান্ডাজনিত কাশি, হাঁচি ইত্যাদির উপসর্গ দেখা মাত্রই এক কাপ দারুচিনি মিশ্রিত চা আপনাকে ঠান্ডাজনিত এসব সমস্যা দূর করে দেবে।

 কাঁচা মরিচ

প্রতিদিন যাদের ভাতের সাথে একটি কাঁচা মরিচ না খেলে চলেই না তাদের জন্য সুখবর হচ্ছে কাঁচা মরিচ স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। মরিচকে ঝাল বানায় এর বিশেষ উপাদান ক্যাপসাইকিন, এই উপাদান মুখে লালা আনে ফলে খেতে মজা লাগে। কাঁচা মরিচ সাধারণত কাঁচা, রান্না কিংবা বিভিন্ন ভাজিতে দিয়ে খাওয়া হয়। এতে আছে ভিটামিন এ, সি, বি-৬, আয়রন, পটাশিয়াম এবং খুবই সামান্য পরিমাণে প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট। এছাড়াও এগুলো ত্বক ও স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। দেখে নিন কাঁচা মরিচের স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো।

কাঁচা মরিচের স্বাস্থ্য উপকারিতাঃ

* গরম কালে কাঁচা মরিচ খেলে ঘামের মাধ্যমে শরীর ঠান্ডা থাকে।
* প্রতিদিন একটি করে কাঁচা মরিচ খেলে রক্ত জমাট বাধার ঝুঁকি কমে যায়।
* নিয়মিত কাঁচা মরিচ খেলে হৃদপিণ্ডের বিভিন্ন সমস্যা কমে যায়।
* কাঁচা মরিচ মেটাবলিসম বাড়িয়ে ক্যালোরি পোড়াতে সহায়তা করে। ফলে এটি বাড়তি ওজ়ন হ্রাসে সহায়ক।
* কাঁচা মরিচে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও বিটা ক্যারোটিন আছে যা কার্ডোভাস্ক্যুলার সিস্টেমকে কর্মক্ষম রাখে।
* নিয়মিত কাঁচা মরিচ খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
* কাঁচা মরিচ রক্তের কোলেস্টেরল কমায়।
* কাঁচা মরিচে অবস্থিত ভিটামিন এ হাড়, দাঁত ও মিউকাস মেমব্রেনকে ভালো রাখতে সহায়তা করে এবং ভিটামিন সি মাড়ি ও চুলের সুরক্ষা করে।
* নিয়মিত কাঁচা মরিচ খেলে নার্ভের বিভিন্ন সমস্যা কমে।
* কাঁচা মরিচে রয়েছে এন্টিব্যাক্টেরিয়াল উপাদান যা আমাদের শরীরকে জ়ীবাণুমুক্ত রাখে।
* কাঁচা মরিচে আছে ভিটামিন সি। তাই যে কোনো ধরণের কাটা-ছেড়া কিংবা ঘা শুকানোর জন্য কাঁচা মরিচ খুবই উপকারী এবং একই সাথে শরীরকে জ্বর, সর্দি, কাশি ইত্যাদি থেকে রক্ষা করে।
* কাঁচা মরিচের ক্যাপসাইকিন উপাদানটি মস্তিষ্কে endorphins নামক হরমোন নিঃসৃত করে, যা বিষন্নতা দূর করে।
* কাঁচা মরিচ একটি আঁশ সমৃদ্ধ সবজি, ফলে এটি খাদ্য হজমেও সহায়ক।
* প্রতিদিন খাবার তালিকায় অন্তত একটি করে কাঁচা মরিচ রাখলে ত্বকে সহজে বলিরেখা পড়ে না।


সুপার ফুড” কাঠ বাদামের  উপকারিতা
কাঠবাদাম আমরা সকলেই চিনি। তবে জানিনা যে একে বলা হয় সুপারফুড। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন বি, ই, ডি এবং ভালো ফ্যাট যা আমাদের দেহের জন্য অত্যন্ত ভালো। খেতে বেশ সুস্বাদু বলে অনেকেই বাসায় কাঠবাদাম কিনে রাখেন। নিয়মিত কাঠবাদাম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ভালো। আসুন দেখে নেই কাঠবাদামের অসাধারণ চারটি স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য উপকারিতা।

স্মৃতিশক্তি প্রখর করে কাঠবাদামঃ

প্রতিদিন একমুঠো কাঠবাদাম প্রখর করে স্মৃতিশক্তি। কাঠবাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি। যা মস্তিষ্কের কোষগুলোকে উন্নত করতে সহায়তা করে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। বাচ্চাদের ছোটবেলা থেকেই প্রতিদিন কাঠবাদাম খাওয়ার অভ্যাস করলে স্মৃতিশক্তি অনেক বেশি প্রখর হয়। তবে অবশ্যই তেলেভাজা লবণাক্ত বাদাম খাওয়া উচিৎ নয়। পানিতে ভিজিয়ে ছিলে খেতে হবে।

দ্রুত ওজন কমাতে কাঠবাদামঃ

কাঠবাদামে রয়েছে ফাইটোস্টেরল এবং মনো আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড যা দেহের ক্ষতিকর কোলেস্টরল কমাতে সাহায্য করে। কাঁচা কাঠবাদাম প্রোটিন এবং ফাইবারের উৎস যা অনেক সময় ধরে ক্ষুধার উদ্রেক করে না। এবং ক্ষুধা কমায়। এতে করে ওজন কমতে সাহায্য করে।

চুলের যত্নে কাঠবাদাম তেলঃ

চুল পড়া, চুলের রুক্ষতা এবং মাথার ত্বকের সুস্থতায় কাঠবাদামের তেলের জুড়ি নেই। কাঠবাদামের ভিটামিন ডি ও ম্যাগনেসিয়াম চুল পড়া রোধ করে এবং মাথার ত্বক উন্নত করে। চুলে সরাসরি এই তেল লাগিয়ে ঘন্টাখানেক রেখে চুল ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে পাবেন স্বাস্থ্যোউজ্জ্বল চুল।

ত্বকের সুস্থতায় কাঠবাদামের দুধঃ

কাঠবাদামের ভিটামিন ই ত্বকের রুক্ষতা ও শুষ্কতা দূর করতে বেশ কার্যকরী। ত্বকের জন্য প্রাকৃতিক ময়েসচারাইজার হিসেবে কাজ করে কাঠবাদামের দুধ। কাঠবাদাম বেটে নিয়ে চিপে এর দুধ বের করা যায় সহজেই। এই দুধ সরাসরি ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বক মসৃণ, সুন্দর ও উজ্জ্বল হয়।

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *