চিকিৎসার খরচ চালাতে বছরে সর্বস্বান্ত ১০ কোটি মানুষ

চিকিৎসার ব্যাপক ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে প্রতিবছর ১০ কোটিরও বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও-হু) এবং বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত একটি প্রতিদেবনে জানানো হয়েছে, চরম দারিদ্র্যের মধ্যে থাকা বেশির ভাগ মানুষ গড়ে ১.৯০ ডলার খরচে দিনযাপন করে।

অর্থের অভাবে বেশির ভাগ সময়ই তাদের শিক্ষা বা খাদ্যের মতো অত্যাবশ্যকীয় জিনিস আর স্বাস্থ্য রক্ষার মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে হয়।

স্বাস্থ্য রক্ষার খরচ বেশি বলেই বিশ্বের প্রায় ১২ কোটি ২০ লাখ মানুষ দিনে মাত্র ৩.১০ ডলারের ওপর নির্ভর করে জীবন কাটায়। আন্তর্জাতিক মাপকাঠিতে দৈনিক এই খরচ ‘মধ্যম মানের দারিদ্র্য’ বলে গণ্য। এই পর্যায়ে যারা পড়ে তাদের সংখ্যা ২০০০ সালের পর থেকে গত ১৭ বছরে প্রায় ১.৫ শতাংশ বেড়েছে। আর এটাই চিন্তা বাড়াচ্ছে বিশেষজ্ঞদের। এ সংখ্যাই প্রমাণ করছে, গত কয়েক বছরে স্বাস্থ্য খাতে খরচ কিভাবে বেড়েছে, কিভাবে সর্বস্বান্ত হচ্ছে মধ্যবিত্ত শ্রেণি। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা এশিয়ার। সেখানে সবচেয়ে বেশি লোক বছর বছর চিকিৎসার ভার বহন করতে গিয়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যায়।

সমীক্ষায় প্রকাশ, ৮০ কোটি মানুষের পারিবারিক বাজেটের প্রায় ১০ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে অপরিকল্পিতভাবে ব্যয় হয়।

অর্থাৎ তাদের বেশির ভাগের স্বাস্থ্যবীমা রয়েছে; কিন্তু এই ১০ শতাংশ খরচ বীমার বাইরে অতিরিক্ত খরচ। এশিয়ার ৭২ শতাংশ মানুষ তাদের পারিবারিক বাজেটের ২৫ শতাংশ অপরিকল্পিত চিকিৎসা খাতে খরচ করে। গরিব পরিবারের মাত্র ১৭ শতাংশ নারী গর্ভবতী অবস্থায় বা বাচ্চার স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে যথাযথ পরিষেবা পায়, সেখানে ধনী পরিবারে তা ৭৪ শতাংশ।

ন্যূনতম স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য যেখানে এত খরচ, সেখানে বড় কোনো অসুখ হলে লোকজনের যে ঘটিবাটি বেচে দেওয়ার অবস্থা হবে, তা বলাই বাহুল্য। সে আশঙ্কাই ফুটে উঠেছে বিশ্বব্যাংকের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যাসংক্রান্ত অধিকর্তা টিমোথি ইভান্সের কথায়। তাঁর বক্তব্য, ‘এটা শুধু গরিব দেশের সমস্যা নয়, ধনী-গরিব সব দেশেরই এক অবস্থা। স্বাস্থ্য খাতে খরচ মেটাতেই যদি লাখ লাখ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠে তাহলে ২০৩০ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্য ঘোচানোর যে লক্ষ্য আমরা নিয়েছি, তা সফল হবে না। ’ প্রত্যেক মানুষ যাতে কোনো রকম আর্থিক অনটনের মধ্যে না পড়ে, স্বল্প খরচেই ন্যূনতম স্বাস্থ্য পরিষেবা পেতে পারে, তা নিশ্চিত করাই হু ও বিশ্বব্যাংকের লক্ষ্য। তবে প্রতিটি দেশের সরকারি সহযোগিতা ছাড়া যে এটা সম্ভব নয়, তাও স্পষ্ট করা হয়েছে এই প্রতিদেবনে।

অক্সফামের স্বাস্থ্যনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা আন্না ম্যারিয়টের কথায়, ‘প্রতিটি দেশ যদি স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেয়, তাহলে সব দেশেই খরচ কমানো সম্ভব। প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবাকে গুরুত্ব দেওয়া খুব প্রয়োজন। শহরের দিকের হাসপাতালে তাও অনুদান আসে; কিন্তু গ্রামের দিকে সেটুকুও মেলে না। ’ প্রতিদেবনের দিকে তাকালে আরো একটি বিষয় স্পষ্ট হবে, স্বাস্থ্য পরিষেবার এই বিপুল ব্যয়ভার শুধু উন্নয়নশীল দেশে নয়, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা এবং এশিয়ার বেশ কিছু অংশেও। সেখানে বেশির ভাগ মানুষেরই স্বাস্থ্যবীমা রয়েছে, তার পরও অপরিকল্পিত চিকিৎসা খাতেই তাদের পারিবারিক বাজেটের প্রায় ১০ শতাংশ খরচ হয়ে যায়।

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *