চোখ উঠার লক্ষণ ও করণীয়

লক্ষণ ও উপসর্গ
কঞ্জাঙ্কটিভার সবরকম প্রদাহের ক্ষেত্রেই চোখের সাদা অংশ লাল হয়ে ওঠে। অন্যান্য লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
কঞ্জাঙ্কটিভার প্রদাহ যখন ব্যাকটেরিয়া দ্বারা উৎপন্ন হয়

  • চোখ থেকে পুজের মতো ঘন পদার্থ নিসৃত হয় এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর চোখের পাপড়িগুলো শক্ত এবং জড়সড় হয়ে ওঠে।

কঞ্জাঙ্কটিভার প্রদাহ যখন ভাইরাস দ্বারা উৎপন্ন হয়

  • চোখ থেকে পানির মতো ঘন পদার্থ বের হওয়া, প্রায়শই যেকোন একটি চোখ থেকে এই নি:সরণ ঘটা এবং মাঝে মধ্যে চোখের পাতা যুক্ত হয়ে যাওয়া।

কঞ্জাঙ্কটিভার প্রদাহ যখন এ্যলার্জির দ্বারা উৎপন্ন হয়

  • চোখের চারপাশের ত্বকগুলো ফুলে ওঠে।
  • চোখে চুলকানির মতো হয়।
  • চোখে জ্বলা-পোড়া হয় এবং পানি পড়তে থাকে|
  • নাক দিয়ে পানি পড়া, এবং হাঁâি হওয়া।

কঞ্জাঙ্কটিভার প্রদাহ যখন পরিবেগত প্রভাবক দ্বারা উৎপন্ন হয়

  • চোখের ভেতর কিছু ঢুকেছে বলে মনে হওয়া।
  • চোখে জ্বলা-পোড়া হয় এবং পানি পড়তে থাকা|

কী করা উচিত

ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস বাহিত কঞ্জাঙ্কটিভার প্রদাহের ক্ষেত্রে:

  • আক্রান্ত চোখের যন্ত্রণা উপশমের উদ্দেশ্যে একটা পরিস্কার, উষä এবং হালকা ভেজা কাপর দিয়ে চেপে ধরতে পারেন। সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যবহারের পর কাপড়টি গরম পানি এবং ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • যদি আপনার মনে হয় যে আপনার শিশুটি কঞ্জাঙ্কটিভার প্রদাহ সংক্রান্ত সংক্রমণযোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়েছে, তাহলে তাকে বাসায় রাখুন। তার শিক্ষক বা শিক্ষিকা এবং অন্যান্য শিশুদের বাবা-মা সেক্ষেত্রে উপকৃত হবেন।

পরিবেশগত প্রভাবক দ্বারা বাহিত কঞ্জাঙ্কটিভার প্রদাহ

  • আক্রান্ত চোখের যন্ত্রণা উপশমের উদ্দেশ্যে ওষধের দোকান থেকে কৃত্তিম টিয়ারড্রপ কিনে ব্যবহার করতে পারেন।

এ্যালার্জি বাহিত কঞ্জাঙ্কটিভা

  • আক্রান্তচোখেরচুলকানিথেকেনিস্কৃতিপেতেএকটাভেজা, ঠাণ্ডাপরিস্কারকাপড়দিয়েচোখটিপরিস্কার
  • এ্যালার্জিআইড্রপএবংপিলখেয়েচোখেরলালরঙধারণকরাএবংচুলকানিবন্ধকরাসম্ভব।তবেমনেরাখবেনপিলগুলোআপনারঘুমবাড়িয়েদিতেপারে।

কখন ডাক্তার দেখাবেন

  • জরুরী ভিত্তিতে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন যদি আপনার সদ্যজাত শিশুটির চোখ লাল হয়ে ওঠে এবং চোখ থেকে কোন তরল পদার্থ নিসৃত হয়; চোখকে þহায়ী কোন সমস্যা থেকে বাঁচাতে যতো দ্রুত সম্ভব চিকিৎসার আশ্রয় নিন।
  • যদি আপনার চোখে আঘাত লাগে, তবে সতর্ক হোন, আঘাত থেকে সংক্রামক ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে যেটা পরবর্তীতে কর্ণিয়ার ক্ষততেও পরিণত হতে পারে।
  • যদি কঞ্জাঙ্কটিভার প্রদাহ আপনার দৃষ্টিশক্তিকেও প্রভাবিত করে, কিংবা তীব্র ব্যথা বা অতিরিক্ত তরল পদার্থ নির্গমনের সূচণা করে সেক্ষেত্রে সেটা সম্ভবত সংক্রামক ঘায়েরই লক্ষণ।
  • নিজে নিজে একসপ্তাহ যাবৎ পরিচর্যা করার পরও যদি কঞ্জাঙ্কটিভার প্রদাহ দিন দিন খারাপ হতে থাকে, সেক্ষেত্রে বুঝতে হবে এটা ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া বাহিত প্রদাহ।
  • আপনি যদি প্রায়ই এই রোগে আক্রান্ত হন।
  • যদি কঞ্জাঙ্কটিভার এই প্রদাহের লক্ষণগুলোর পেছনে সংক্রামক ঘা, ঠাণ্ডা লাগা বা এ্যালার্জির কোন প্রভাব নেই বলে আপনার মনে হয়।
  • কিছু কিছু চোখের রোগ রয়েছে যেগুলোতে আক্রান্ত হলেও চোখ লাল হয়ে ওঠে এবং চোখ থেকে পানি পড়ে।
  • যদি আপনি লক্ষ্য করেন যে উজ্জ্বল আলোতে আপনার চোখে অস্বস্তিবোধ হয় এবং চোখ লাল হয়ে ওঠে, কিংবা দৃষ্টি অস্পষ্ট হয়ে ওঠে তাহলে সেটা ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি লোপ পাওয়ার বা গ্লাউকোমার লক্ষণ।

কীভাবে প্রতিরোধ করবেন

  • অন্যদের ব্যবহৃত চোখের প্রসাধনি এবং চোখের ড্রপ পরিহার করুন।
  • অন্যান্যদের রুমাল, টাউয়েল এবং মুখ ধোয়ার কাপড় ব্যবহার করবেন না।
  • আপনার যদি কঞ্জাঙ্কটিভা রোগ থাকে, সেক্ষেত্রে নিজের চোখ স্পর্শ করে অন্যদেরকে সেই হাত দিয়ে ছুবেন না, কেননা এই রোগ সংক্রমণযোগ্য।
  • আপনার বা আপনার সাথে বসবাসরত কারোর যদি এই রোগ থাকে তাহলে আপনাদের হাত কিছুক্ষণ পরপর ধুয়ে ফেলুন।
  • যদি আপনার এ্যালার্জি থাকে সেক্ষেত্রে এ্যালার্জি উৎপাদক বস্তু যেমন, পুস্পরেণু, ধূলা, ছত্রাক বা ছাতা পড়া দ্রব্য, এবং লোমশ প্রাণীর সংস্পর্শ থেকে মুক্ত থাকুন।
  • আপনার চোখ যদি পরিবেশগত প্রভাবকগুলোর প্রতি সংবেদনশীল হয়, সেক্ষেত্রে রাসায়নিক দ্রব্য বা আগুনের উত্তাপ থেকে পরিত্রাণ পেতে গগল্স ব্যবহার করতে পারেন।
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *