ছত্রাকবাহিত রোগ

লক্ষণ ও উপসর্গ

ইস্ট বা ছত্রাকের ক্ষত:

  • যোনীপথ দিয়ে ঘন, সাদা তরলের নির্গমন।
  • চুলকানি, ব্যথা, কিংবা যৌনাঙ্গে (পুরুষ কিংবা নারীর) সংবেদনশীলতা। পুরুষের ক্ষেত্রে, শিশ্নের অগ্রভাগে প্রদাহ হওয়া।
  • যৌন মিলনের সময় ব্যথা কিংবা শিরশিরে বা টনটনে ব্যথা।
  • পুন:পুন: মূত্র ত্যাগের তাগিদ এবং পস্রাবের সময় ব্যথা হওয়া।
  • মুখে, জিহ্বায় হলদে বা সাদা ক্রিমের মতো খসখসে ব্যথাময় ঘা, যেটা সহজেই চেছে বা ছাড়িয়ে নেয়া যায় (থ্রাশ)
  • ভেজা ত্বক বা সিক্ত স্যাতস্যাতে ত্বকের উপর লালচে, চুলকানি প্রবণ গোটা বা ঘা যার উপর সাদা খসখসে পরত রয়েছে। বিশেষত যৌনাঙ্গের চারপাশে, নিতম্বের মাঝখানে কিংবা স্তনের নিচে।

এথলেট’স ফুট:

  • পায়ের পাতায়, কিংবা আঙ্গুলের মাঝে শুষ্ক চামড়ার পরত কিংবা ফুস্কুরি।
  • সাধারণত পায়ের আঙ্গুলের মাঝে চুলকানি, খুসকির মতো খস খসে লালচে ত্বক বা চামড়া।
  • পায়ের নখ পরু হয়ে ওঠা, কিংবা কয়েক স্তর পরা, কিংবা হলদেটে এবং খসখসে হয়ে ওঠা।

জক ইচ: যৌনাঙ্গের চারপাশে, পুরুষের ক্ষেত্রে যৌনাঙ্গে চুলকানিময়, লালচে গোটার উৎপত্তি। গোটাগুলো নিতম্ব এবং থাই-এর ভেতরের দিকেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

কী করা উচিত

ইস্ট বা ছত্রাকের ক্ষত:

  • যদি আপনার যোনীতে ইস্ট বা ছত্রাক বাহিত ক্ষত হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে যৌন সংসর্গ এড়িয়ে চলুন কিংবা যৌনমিলনের সময় কনডম ব্যবহার করুন। (এটা সংক্রামক)।
  • ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ডিসপেন্সারি থেকে কোন ছত্রাক নিরোধক ওষুধ বা মলম ব্যবহার করুন।
  • সুতির কাপড়ের পরিস্কার আন্ডারওয়্যার ব্যবহার করুন এবং প্যান্টি হোজ বা পা থেকে কোমড় পর্যন্ত লম্বা মোজা পরিধান বর্জন করুন।

এথলেট’স ফুট:

  • প্রতিদিন গোসলের সময় আপনার পায়ের আঙ্গুলের মাঝখানগুলো পরিস্কার করুন এবং সে অংশগুলো শুকনো কাপড় দিয়ে সাবধানে মুছে দিন।
  • ডিসপেন্সারি থেকে ফাঙ্গাস প্রতিকার করে এরকম ক্রিম কিংবা পাউডার কিনে আপনার পায়ে মাখতে পারেন। জুতোতে প্রতিদিন কিছু পরিমাণে পাউডার ছড়িয়ে দিতে পারেন।
  • প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার আপনার খেলাধুলা করার জুতো গুলো পরিস্কার করুন।
  • পরিস্কার সূতির কাপড়ের মোজা পরিধান করুন। এবং দুই জোড়া জুতো এক একদিন এক এক জোড়া করে পড়ুন। ফাঙ্গাসগুলোর মরে যেতে ২৪ ঘন্টা সময় প্রয়োজন।
  • ঘরে জুতো এবং মুজো পড়ে থাকবেন না, বরং সেগুলো খুলে রাখুন যাতে আপনার পা প্রচুর আলো বাতাস পায়।

জক ইচ:

  • প্রতিদিন দুই থেকে তিনবার ফাঙ্গাস প্রতিকার করে এরকম পাউডার, ক্রিম কিংবা স্প্রে আক্রান্ত þহানে ব্যবহার করুন যতদিন না ছোট গোটাগুলো না সারে। এবং সেরে যাবার পরের এক সপ্তাহও সেই ওষুধগুলো ব্যবহার ছাড়বেন না, বরং চালিয়ে যাবেন যাতে করে ফাঙ্গাস বা ছত্রাকগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়।
  • রতিদিন আপনার আন্ডারওয়্যার এবং অন্যান্য এ্যথলেটদের পরিধেয় কোন বস্ত্র যদি পড়েন সেগুলোও বদলে নেবেন। এবং উষä পানিতে ধুয়ে, শুকিয়ে ব্যবহার করবেন।
  • গোসলের পর আপনার যৌনাঙ্গ থেকে পানি মুছে শুষ্ক করে নিন। আপনি হেয়ার ড্রাইয়ার সবচে কম তাপে ব্যবহার করেও এসব þহান পুরোপুরি শুষ্ক করতে পারেন।

কখন ডাক্তার দেখাবেন

ইস্ট ইনফেকশান বা ছত্রাকের ক্ষত:

  • যদি আপনার সন্দেহ হয় যে ডিসপেন্সারি থেকে কেনা ওষুধগুলো ব্যবহারের পরও আপনার সমস্যার কোন উন্নতি হচ্ছে না।
  • পরীক্ষা নিরিক্ষার পর ডাক্তার হয়তো আপনাকে ফাঙ্গাস নিরোধোক সাপোসিটোরি নিতে পরামর্শ দেবে, কিংবা এ ধরনের ক্রিম বা ট্যাবলেটও দিতে পারে (এবং আপনার যৌনসঙ্গি বা স্বামী বা স্ত্রীকেও দিতে পারে।)

এথলেট’স ফুট:

  • যদি ঘরোয়া চিকিৎসার পরও আপনার পায়ের দুর্গন্ধ থেকে যায় এবং সেটা না সেরে ওঠে – সেক্ষেত্রে এটা আরও মারাত্মক সমস্যার লক্ষণ।
  • যদি আক্রান্ত þহানের গোটা গুলো ছড়াতে থাকে এবং দুই সপ্তাহ নিজে নিজে চিকিৎসার পরও কোন উন্নতি না হয়। যদি একবার এই রোগ সংক্রামিত হতে শুরু করে তাহলে এই সংক্রামন থেকে নিস্কৃতি পাওয়া দুস্কর।
  • যদি এই সংক্রমণ আপনার নখ পর্যন্ত ছুয়ে যায়। এই অবþহায় নিস্কৃতি খুবই দুরূহ। এই ক্ষেত্রে আপনার নখ ব্যাকটেরিয়া বাহিত রোগের প্রতি আরও দুর্বল হয়ে পড়ে, কেননা ভাঙ্গা þহানগুলো সহজে সিক্ত হয়ে উঠতে পারে।

জক ইচ:

  • দুই এক সপ্তাহের চিকিৎসার পরও যদি সমস্যার কোন সমাধান না হয়।
  • যদি আপনার ক্ষতগুলোর মুখ গলে যায়, এবং সেখান থেকে পূজ নির্গত হয় তাহলে সেটা এই রোগের দ্বিতীয় ধাপের লক্ষণ।
  • যদি গোটাগুলো ছড়াতে থাকে, এবং আরও খারাপ দিকে যায়, কিংবা বার বার হতে থাকে।

কীভাবে প্রতিরোধ করবেন

  • আক্রান্ত þহান প্রতিদিন পরিস্কার করুন এবং ভালোভাবে মুছে শুষ্ক রাখুন।
  • টাইট জুতো, আন্ডারওয়্যার পরিধান এড়িয়ে চলুন, বিশেষত গরমের দিনে।

ইস্ট ইনফেকশান:

  • মেয়েদের ব্যবহার্য্য হাইজিন স্প্রে বা ডুশ ব্যবহার করবেন না, কেননা এগুলো ফাঙ্গাস বা ছত্রাক নিরোধক উপকারকারী ব্যাকটেরিয়াগুলোকেও মেরে ফেলে।
  • নায়লনের আন্ডারওয়ার পরবেন না। এইগুলো ত্বকে যথেষ্ট পরিমাণ বাতাস যেতে দেয় না, ফলত ভেতরে ছত্রাকের জন্যে অনুকÿল আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়। এবং সূতি নয় এরকম (এ্যাথলেটদের) পরিধেয়গুলোও পরিত্যাগ করুন।

এথলেট’স ফুট:

যত বেশি সম্ভব স্যান্ডেল ব্যবহার করুন, বাড়িতে খালি পায়ে চলাচল করুন, যাতে আপনার পায়ে যথেষ্ট বাতাস লাগতে পাওে, এবং পাবলিক ড্রেসিংরুম, বা টয়লেটে পায়ে প্লাস্টিকের স্যান্ডেল পড়ুন।

জক ইচ:

  • ব্যয়াম চর্চা শেষ হবার সাথে সাথে আপনার পোশাকগুলো পরিবর্তন করুন। এবং অন্যের ব্যবহৃত টাওয়েল জিমে ব্যবহার করবেন না। জক ইচ রোগটাও কম বেশি সংক্রামক।
  • যদি কয়েক ধাপে আপনার এই রোগ হয় সেক্ষেত্রে জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্যে মুখে সেবনযোগ্য কোন ওষুধ খাওয়া যায় কি না সে ব্যাপারে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন। অন্যথায় জন্মনিয়ন্ত্রনের পদ্ধতি পরিবর্তন প্রসঙ্গেও ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।
  • যদি আপনি স্টেরইড ইনহেলার সেবন করেন সেক্ষেত্রে সেটা ব্যবহারের পর মুখ ভালোভাবে ধূয়ে ফেলার বিষয়ে সতর্ক থাকুন, যাতে মুখে থ্রাশ জন্ম নিতে না পারে।
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *