দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নীতিমালা প্রণয়ন

রাজধানীসহ সারাদেশে প্রতিদিনই ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। সরকার সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।

গত ১০ অক্টোবর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সিরাজুল খান স্বাক্ষরিত এ নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি হয়। প্রণীত এ নীতিমালাটির ‘সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নীতিমালা-২০১৭’ নামকরণ করা হয়।

এ নীতিমালার আওতায় আহত ব্যক্তির আর্থিক সঙ্গতি না থাকলেও সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালে দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের সহায়তা করতে গিয়ে সাহায্যকারী ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন সে ব্যাপারে নীতিমালায় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ এর তথ্যানুসারে সড়ক দুর্ঘটনায় দেশে বছরে ২৩ হাজারেরও বেশি মৃত্যু ও ৩৫ হাজার নারী, পুরুষ ও শিশু আহত হয়। আর্থিক ক্ষতি বিবেচনায় বছরে ক্ষতির পরিমাণ ৩৪ হাজার কোটি টাকা।

সড়ক মহাসড়কে কারিগরি ত্রুটি, যানবাহন চলাচলে অনিয়ম, চালকের অদক্ষতা, জনসচেতনতা অভাব ও সড়ক মহাসড়কে চলাচল উপযোগী নিরাপদ যানবাহনের অভাবে রাজধানীসহ সারাদেশে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়।

এ ধরনের দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তির জরুরি চিকিৎসা আবশ্যক হলেও তারা যথাসময়ে উপযুক্ত চিকিৎসা পান না। বিভিন্ন ছোট বড় হাসপাতাল বিশেষ করে বেসরকারি হাসপাতালগুলো নানা অজুহাতে দুর্ঘটনার শিকার রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করে। আহত ব্যক্তি যথাসময়ে উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন, বিকলাঙ্গ বা পঙ্গুত্ব বরণ করেন এমন কি তাদের মৃত্যুর আশঙ্কাও থাকে।

জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি-২০১১ অনুসরণ, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার আলোকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত-নিহতের সংখ্যা হ্রাস, জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা স্ট্রাটেজিক প্ল্যানের সুপারিশ সর্বোপরি হাইকোর্টের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে এ নীতিমালা প্রণীত হয়।

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদান নিশ্চিত করতে নীতিমালায় বলা হয়, হাসপাতাল স্থাপনের অনুমোদন প্রদানের আগে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, জনবল ও জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামাদিসহ জরুরি বিভাগ স্থাপনের শর্ত আবশ্যিকভাবে প্রতিফলন করতে হবে। ইতোমধ্যে স্থাপিত হাসপাতালের অনুমোদন/নিবন্ধন/লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে ওই শর্ত পালন নিশ্চিত করতে হবে। আহত ব্যক্তির জীবন বাঁচাতে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে পাঠাতে হবে।

হাসপাতালে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করতে হবে। আইনি জটিলতার সম্ভাবনা বিবেচনায় চিকিৎসাসেবা প্রদানে বিলম্ব করা যাবে না। আহত ব্যক্তির আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা না করে চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে হবে। প্রণীত নীতিমালায় আরও বলা হয়, চিকিৎসা প্রদানে সক্ষমতা সম্পন্ন হাসপাতাল কোনো অবস্থাতেই রোগীর চিকিৎসা প্রদান না করে ফেরত বা অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা যাবে না।

জরুরি চিকিৎসা প্রদানের ক্ষেত্রে কোন চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ব্যক্তি অবহেলা কিংবা শৈথল্য প্রদর্শন করলে তা অসদাচরণ বলে বিবেচিত হবে। এক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবহেলা বা শৈথল্য প্রদর্শন করলে নিবন্ধন/লাইসেন্স/অনুমতি প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ ওই হাসপাতালের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

আহত ব্যক্তির অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে স্বজন বা আত্মীয় না থাকলেও চিকিৎসক প্রাণ বাঁচাতে অস্ত্রোপচার করবেন। এক্ষেত্রে রোগী মারা গেলে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে না ইত্যাদি।

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *