ফোস্কা বা ফুস্কুরি

লক্ষণ ও উপসর্গ

  • ত্বকের উপর যন্ত্রণাদায়ক তরল পদার্থ সমন্বিত স্ফীতি, কখনও কখনও এগুলো গুচ্ছ গুচ্ছ হয়ে জন্ম নেয়। এগুলোর আকার ছোট একটা বিন্দু থেকে শুরু করে কয়েক ইঞ্চি পর্যন্ত হতে পারে।
  • আক্রান্ত þহানে চুলকানি এবং প্রদাহ (কখনও কখনও)

কী করা উচিত

সাধারণত কোন চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না কেননা আক্রান্ত ত্বকের নিচে আবারও নতুন ত্বক জন্ম নেয় এবং যে তরলটুকু থাকে সেটুকুও শোষিত হয়।

১. ঘষা দ্বারা উৎপন্ন ফোস্কা:

  • ফোস্কাকে ফাটিয়ে দিলে সংক্রামণের ঝুঁকি থাকে। এ কারণে ছোট ফোস্কাগুলোকে বেশি নাড়াচাড়া না করাই ভালো। যদি বড় এবং যন্ত্রণাদায়ক একটি ফোস্কাকে গালিয়ে দিতে হয় সেক্ষেত্রে: আক্রান্ত þহানটি প্রথমে স্যাভলন কিংবা এ জাতীয় অন্যান্য এন্টিবায়োটিক দিয়ে পরিস্কার করে নিন। এবার একটা স্টেরাইল (জীবাণুমুক্ত) সূই দিয়ে ফোস্কাটার একদিকে সামাণ্য ফোঁটা করুন এবং ভেতরের তরলটিকে বেড়িয়ে যেতে দিন।
  • এরপর এন্টিবায়োটিক ক্রিম লাগিয়ে þহানটি তুলো বা ব্যান্ডএইড দিয়ে আটকে দিন।
  • যে ঢিলে এবং আক্রান্ত ত্বকটুকু রয়েছে সেটা তুলে ফেলবেন না, কেননা নতুন ত্বক জন্মাতে উপরে ওইটুকু আচ্ছাদনের প্রয়োজন রয়েছে। ফেঁটে যাওয়া ফোস্কাকে রক্ষা করতে কোনকিছু দিয়ে ঢেকে দিন। সাধারণ কোন আঠালো ব্যান্ডেজ দিয়েও কাজটা করতে পারেন কিংবা গজ প্যাড দিয়েও ঢেকে দিতে পারেন যদি ফোস্কাটা বড় হয়। প্রতিদিন ব্যান্ডেজটা বদলে নিন আর যদি সেটা ভিজে যাবার বা সিক্ত হয় সেক্ষেত্রে যতোবার ভিজবে ততোবার ব্যান্ডেজ বদলে নিন।

২. পুড়ে যাওয়া থেকে সৃষ্ট ফোস্কা:

  • আক্রান্ত þহানে অনতিবিলম্বে যথেষ্ট পরিমাণে ঠাণ্ডা পানি ঢালুন কিংবা স্যালাইনের দ্রবণ বা সলুশন ঢালুন। আক্রান্ত জায়গাটি ঘষবেন না এবং সেখানে কোন বরফ চেপে ধরবেন না।
  • পুড়ে যাওয়া থেকে সৃষ্ট ফোস্কাকে কখনই গালবেন না।

কখন ডাক্তার দেখাবেন

  • যদি ফোস্কাটি ত্বক পুড়ে যাবার কারণে সৃষ্ট হয় এবং আকারে বড় হয়, যন্ত্রণাদায়ক হয়। ফোস্কা হলো পুড়ে যাবার তীব্রতার দ্বিতীয় স্তও (সেকেণ্ড ডিগ্রী বার্ণ) কিছু কিছু দ্বিতীয় স্তর এবং সকল তৃতীয় স্তরের পুড়ে যাওয়া ক্ষতের চিকিৎসায় ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
  • যদি আপনার ফোস্কাগুলো ত্বকের সমস্যার কারণে কিংবা কোন বিষাক্ত পদার্থের ছোয়ায় বা রাসায়নিক দ্রব্যের ছোয়ায় সৃষ্টি হয়।
  • যদি ফোস্কার ভেতরের তরলটি পরিস্কার না হয়। যদি ফোস্কা থেকে সাদা, সবুজ বা হলদেটে কোন তরল নির্গত হয় সেক্ষেত্রে সেটা ঘায়ে পরিণত হয়েছে।

কীভাবে প্রতিরোধ করবেন

  • যেসব কাজ আপনি মাঝে মধ্যে করে থাকেন সেগুলো করার সময় হাতে গ্লাভস পড়ে নিন, যেমন মাটি কোপানো, মোছামুছি কিংবা ভারী বস্তু উত্তোলন করা।
  • আপনার পা শুষ্ক রাখুন। যেসব মোজা শোষণ ক্ষম এবং ছিড়ে যাওয়া ছিদ্র নেই সেগুলো ব্যবহার করুন। যেসব মোজা আপনার পায়ে ভালোভাবে মাপসই হয় সেগুলো পরিধান করুন। যেসব মোজা নিচে নেমে জড়িয়ে যায় সেগুলো পরিধানের ফলেও পায়ে ফোস্কা উঠতে পারে।
  • আপনার পা ঘামাবার প্রবণতা থাকলে ফাঙ্গাস প্রতিরোধ করে এরকম পাউডার পায়ে স্প্রে করে দিতে পারেন।
  • জুতো কেনার সময় ঠিকমতো পায়ের মাপ দেখে পায়ের সাথে সঠিক মাপের জুতো কিনুন।
  • আপনার জুতো নিয়মিত মেরামত করে নিন। জুতোর ক্ষয়ে যাওয়া সোল পায়ের পাতাকে যথেষ্ট প্রতিরোধ দিতে পারে না। জুতো পড়তে পড়তে পুরোনো হয়ে গেলে সেটা ত্বকের ক্ষতি সাধন করতে পারে।
  • পায়ের যেসব þহানে মুজোর ঘষা লাগার সম্ভাবনা বেশি সেসব þহানে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগাতে পারেন, যেমন পায়ের গোড়ালিতে।
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *