বাজারে ক্লোরোফর্ম অবাধে বিক্রি সামাজিক অপরাধ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ভয়ংকর রাসায়নিক পদার্থ ক্লোরোফর্ম অবাধে বিক্রি হচ্ছে বাজারে। এজন্য নেই কোনো মনিটরিং নেই কোনো বিধি-নিষেধ। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যকর পদক্ষেপ চেয়েছেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য বেগম রওশন আরা মান্নান। জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বিষয়টিকে সামাজিক অপরাধ হিসেবে মন্তব্য করেন।

আজ রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধি অনুসারে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশে রওশন আরা মান্নান এ বিষয়টি উত্থাপন করেন। এতে তিনি বলেন, ক্লোরোফর্ম একটি ভয়ংকর রাসায়নিক পদার্থ। এটা কোনো রোগীকে অজ্ঞান করার জন্য অথবা বিভিন্ন গাছ-গাছড়ার নির্যাস বের করতে এই ক্লোরোফর্ম ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এই ভয়ংকর ক্লোরোফর্ম বিক্রিতে কোনো মনিটরিং বিধি-নিষেধ। যে কারণে খোলা বাজারে যে কেউ এই রাসায়নিক পদার্থ যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করতে পারে। এই সুযোগটি নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ী এবং অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা। যার অপব্যবহারের স্বীকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

নোটিশে বলা হয়েছে, এটি একটি মিষ্টি গন্ধযুক্ত পদার্থ। এটি যে কারো নাকে ধরা হলে অজ্ঞান হয়ে যায় সঙ্গে সঙ্গে। তারপর সর্বস্ব লুট করে তাকে মেরে ফেলা হয়।

তিনি আরো বলেন, এভাবে অনেক লোকের মৃত্যু হয়েছে, যার হিসাব সব সময় পাওয়া যায় না। খবরের কাগজেও সব সময় এ সকল খবর পাওয়া যায় না। এই ক্লোরোফর্ম এর পরিমাণ বেশি নাক দিয়ে গেলে মানুষের আর জ্ঞান ফিরে আসে না এবং মানুষ মারা যায়।

নোটিশে জাতীয় পার্টির এই সাংসদ দাবি করেন, অবিলম্বে সরকারকে এ বিষয়ে মনিটরিং এর ব্যবস্থা করে ডাক্তার বা ল্যাবরেটরির মাধ্যমে বা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। মিথ্যা ছাড়পত্র নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে আমদানি করতে না পারে তা লক্ষ্য রাখতে হবে।

নোটিশের জবাব দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বিষয়টিকে সামাজিক অপরাধ হিসেবে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এটা আসলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নয়। এটা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে। তারপরও এটা জনগুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এর দায় আমাদেরও রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে আমরা ক্লোরোফর্ম আমদানি, বিপনন ও বিতরণে কঠোর মনিটরিং করতে অনুরোধ জানাতে পারি। পাশাপাশি সিভিল সার্জনকে দিয়ে স্থানীয়ভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মনিটরিং করতে পারে।

এ সময় মন্ত্রী জানান, ক্লোরোফর্ম অবৈধভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এগুলো নিয়ন্ত্রণ হওয়া প্রয়োজন। পরে ডেপুটি স্পিকার সংশ্লিষ্ট এমপিকে বাণিজ্য মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ বিষয়ের ওপর আরেকবার নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন।

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *