মূত্রগ্রন্থি বা কিডনী পাথরীতে হোমিও চিকিৎসা অসাধারণ

 ডাঃ এম এ রাজ্জাক
মূত্রগ্রন্থি বা কিডনীতে পাথর হওয়া এ কথাটা বর্তমানে শুনলে আৎকে উঠার কিছু নেই বা নতুন কিছু মনে করারও নয়। কিডনীর মধ্যে শক্তদানা কঠিন পদার্থ বা ষ্টোনের মত জমা হলে তাকে রেনাল ষ্টোন বা কিডনীর পাথর বলে। এ পাথর কখনো মূত্রগ্রন্থি / কিডনী, মূত্রানালী, আবার কখনো মূত্রথলিতে এসে জমা হয়।যার ফলে বিভিন্ন সমস্যা সহ প্রস্রাব অবরোধ হতে পারে।

কেন হয় কিডনীতে পাথর:

 কিডনীর কাজ শরীরের রক্ত থেকে ময়লা আবর্জনা ও পানি শোধন করে প্রস্রাব আকারে বের করে দেওয়া। দুটি ইউরেটারে মাধ্যমে প্রস্রাব মূত্রথলিতে এসে জমা হয়।তারপর প্রয়োজনমত বেরিয়ে আসে। আমরা সারাদিন যা পানাহার করি তা থেকে শরীরের দরকারী অংশ শরীর কোষ নিজে রাখে।বাকী অংশ বর্জ্য পদার্থ হিসাবে রক্তের সাথে মিশে কিডনী এ বর্জ্য পদার্থ রক্ত থেকে বের করে নিয়ে প্রস্রাব আকারে নিঃসরণ করে। তাছাড়া আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা কিডনী পালন করে থাকে।

সাধারণত পাথর যে কারনে হয়:

কিডনীতে অনেক রকম ষ্টোন হতে পারে যেমন ইউরিক ষ্টোন, স্ট্রভাইট স্টোন,সিস্টিক এবং ক্যালসিয়াম স্টোন হতে পারে। যে সকল খাবারে ইউরিয়া বা ইউরিক এসিড বেশি থাকে। ক্যালসিয়াম খুব বেশি নিলে। যারা পান খান তারা কন্টিনিউ চুন খাচ্ছেন পানের সাথে, আর চুনে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম থাকে।একটু ভেবে দেখুনত চুন আর চিনি সমপরিমান একত্রে করে কিছু সময় রাখার পর কত শক্ত হয়? পাথরের মত হয় কিনা। যারা পানের সাথে চুন আর মিষ্টি মশলা খাচ্ছেন তাদের জন্য কি এটা হওয়া খুব অসাধারণ? * অতিরিক্ত স্নেহ জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করে যারা * রক্ত সংবহন ক্রিয়ার ব্যাঘাত, * পরিপাক বা পরিপোষন কাজের ব্যাঘাত * যে কোন সংক্রামক রোগ যদি মূত্রযন্ত্র আক্রমন করে *  শরীর হতে অতিমাত্রায় ঘাম নির্গত হওয়ার ফলে  * জলবায়ু  * পেশা  * সর্বপরি বংশে থাকলে ও হতে পারে।

যেভবে বুঝবেন কিডনীর পাথর আছে:

যে কোন বয়সে নারী, পুরুষ, সকলেরই কিডনীতে পাথর জমতে পারে   * বার বার প্রশ্রাবের বেগ * বেদনা কিডনী বরাবর হয়ে নিম্ন কুচকির দিকে, পেটে, বুকে প্রসারিত হতে পাওে * কুচকি,অন্ডকোষ প্রভূতি স্থানে অত্যান্ত যন্ত্রণা হতে পারে *  যে কোন ভারী জিনিস তুলতে গেলে বা রাতে ঘুমার মধ্যে হঠাৎ বেদনার উদ্রেক হতে পারে * অন্ডকোষ উর্ধ্বে দিকে টেনে ধরা মত অনুভব হতে পাওে * বেদনা ও যন্ত্রনা কখনো কখনো বা সব সময় থাকতে পারে * বুমি ভাব * বুমি হতে পারে * হিক্কা-কপালে ঘাম, মুর্চ্ছা যেতে পারে * নাড়ী দ্রুত ক্ষীন * দেহের তাপ মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে ১০৩ ডিগ্রী ফাঃ থেকে ১০৫ ডিগ্রী ফাঃ পর্যন্ত * সর্বদাই পস্রাব করার ইচ্ছা থাকে কিন্তু পারেনা * পস্রাব ফোটা ফোটা বের হয় * তল পেটে ব্যাথা হয় * পস্রাবে পুঁজ রক্ত মিশ্রীত থাকতে পারে * কোন কোন অবস্থার প্রেক্ষিতে রোগী বোধ করে পাথর যেন নড়া চড়া করে * ছোট বাচ্চারা পস্রাব করতে গিয়ে কান্না করতে পারে ** চার বৎসরের একটা শিশুর বেশ কয়েকটা স্টোন এসেছিল সে আমাকে জানালো শেষ দিন যে পাথরটা আসছে। সে দিন আমার অনেক কষ্ট হয়েছে, অনেকক্ষন কেঁদেছি, সহ্য করতে না পেরে একটা কাঠি দিয়ে খুটে এবং টিপে টিপে বের করেছি। পরে অনেকক্ষন রক্ত আসছে।* তাই বলি এখন ছোটদের ও দেখা যায়।

আধুনিক পরীক্ষা নিরীক্ষা:

প্রথমত হিষ্টিরি নিয়ে বুঝা যায় * এক্স-রে করে, আল্ট্রাসোনগ্রাম করে, আইভিও করে, পস্রাব পরীক্ষা করে জানতে পারেন কিডনীর স্টোনের অবস্থা ।

যে কারনে আপনাকে চিকিৎসা নিতে হবে:  এর জটিলতা স্বরূপ- কিডনীর প্রদাহ, শরীর হাত পা ফোলে যেতে পারে * কক্সিমিয়া * মুত্র অবোরধ হয়ে যন্ত্রনায় অস্থির ও অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে।

চিকিৎসা: – হোমিওপ্যাথিতে কিডনীর স্টোনের জন্য অনেক মেডিসিন আছে। তবে এ মেডিসিন গুলো এলোপ্যাথির ন্যায় ধারাবাহিক ভাবে প্রয়োগ করা চলে না। প্রত্যেকটি মেডিসিনই আলাদা আলাদা লক্ষণ সাদৃশে ব্যবহার করে থাকে। যেমন লাইকোপুডিয়াম, লিথিয়াম কার্ব, সার্সাপেরিলা, থ্যালপসি-বার্সা, বারবারিস, এপিজিয়া পেমস্, ক্যানথারিস ও ক্যালকেরিয়া ইত্যাদি। যা একজন আদর্শ চিকিৎসকের পক্ষেই সঠিক মাত্রা শক্তি নির্বাচন সম্ভব।

পাথর যদি বেশি বড় হয়ে যায় বা দীর্ঘদিনের হয় তখন তা অনায়েশে বেরিয়ে আসতে পারেনা। অর্থাৎ ৫ মিলি মিটারের ছোট হলে সহজে বেরিয়ে আসে।

আমার ……………………নামের এক রোগীর পাথর কয়েকটা এসে আর আসছিল না। কিন্তু তার ব্যথা বেদনা ্এমনকি যন্ত্রণার লাঘব হচ্ছিল না। তাই আমি তাকে স্টোন ক্লাস করিয়ে আসতে বলি, সে ইতিপূর্বে আরো ২ বার করিয়েছিল। সে এবার ও তাই করে আসে। তারপর আমি তাকে নিয়মিত ঔষধ সেবনের পরামর্শ দেই সে তাই করে এবং আমাকে ৭ টি পাথর খন্ডের সন্ধান দেয়। তারপর ও তাকে বলি ১ বৎসর চিকিৎসা নিতে, সে ৬ মাস চিকিৎসা নেয়। এখনও দেখা করতে আসে, ৫ বৎসর হলো ভাল আছে। তাই আমি বলি যাদের একবার কোথাও পাথর হয় তা অপসারিত হলেও বার বার হতে পারে। এজন্য মাঝে মধ্যে ঔষধ, পরীক্ষা করতে হবে। ঔষধ খেতে হবে।

যা করতে হবে আপনাকে: 

*পানি পানের অভ্যাস রাখতে হবে প্রয়োজন মতো *ঠান্ডা না লাগাতে হবে * বেদনা উপশমের জন্য হালকা গরম সেক দেওয়া যেতে পারে। * দুধ, সাগু, বার্লি,দধি সুপথ্য। ফলমূল,লেবুর শরবত, বিশুদ্ধ পানি, বিশুদ্ধ বায়ু।

য করবেন না:

রোগ নিয়ে অবহেলা * চুন, সুপারি খাবেন না *অম্ল, অর্জনকর দ্রব্য, মদ্যপান, ধূমপান, মাংস, গুরুপাক খাদ্য নিবেন না। পেইনকিলার দীর্ঘদিন নিবেন না।

লেখকঃ- ডাঃ এম.এ. রাজ্জাক
ডাঃ এম.এ. রাজ্জাক

মোবাইল ঃ ০১৯১২৮৪২৫৮৮
প্রভাষকঃ- তানজিম হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, নারায়ণগঞ্জ।

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *