মেয়েদের পিরিয়ড এবং ডিম্বস্ফোটন – কী, কেন এবং কীভাবে

ডিম্বানু থাকে ডিম্বাশয়ে। একটা মেয়ের ডিম্বাশয়ে মিলিয়ন সংখ্যক অপরিণত ডিম্বানু থাকতে পারে । ডিম্বস্ফোটনের সময় পরিণত ডিম্বানু ফেলোফিয়ান নালিকা দিয়ে ক্রমশঃ

নালিকার নিচের দিকে যেতে থাকে এবং অপেক্ষারত শুক্রানুর সাথে (যদি থাকে) মিলিত হয়ে নিষিক্ত হয়।ডিম্বস্ফোটনের সময় সম্ভাব্য গর্ভধারণ প্রক্রিয়াকে সহজ করার জন্য জরায়ুর প্রাচীর পুরু হয়ে উঠে। সাধারণত একবার ডিম্বস্ফোটনের সময় একটা ডিম্বানুই নির্গত হয়।একটা ডিম্বানু ডিম্বাশয় ত্যগ করার পর সাধারণতঃ আর ১২-২৪ ঘন্টা বেঁচে থাকে।ডিম্বস্ফোটনের সময় অনেকে ডিম্বাশয়ের আশেপাশের এলাকায় মৃদু ব্যাথা অনুভব করতে পারে। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় mittelschmerz বলে। ডিম্বস্ফোটনের সাথে মাসিকের (Menses)কোন সম্পর্ক নেই।ডিম্বস্ফোটন না হলেও মাসিক হতে পারে আবার মাসিক ছাড়াও ডিম্বস্ফোটন ঘটতে পারে।অনিষিক্ত ডিম্বানু খন্ড বিখন্ড হয়ে পরে জরায়ুর প্রাচীর কর্তৃক শোষিত হয়ে যায়।

ডিম্বস্ফোটনের লক্ষণঃ
গর্ভাশয় হতে নির্গত তরলের প্রকৃতি পরিবর্তন(তরলে মৃদু পিছলে পদার্থ থাকবে যা প্রকৃতপক্ষে ডিম্বস্ফোটনপূর্ব ও স্ফোটনকালীন “egg whites” এর ভগ্ন অংশ) ,গর্ভাশয়ের দৃড়তার পরিবর্তন ,উদরের একপাশে ব্যাথা অনুভব করা, যৌন চাহিদা বেড়ে যাওয়া,উদর স্ফীত হয়ে উঠা এবং বিশেষতঃ শরীরের তাপমাত্রার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন (তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া) ইত্যাদি ডিম্বস্ফোটনের লক্ষন।এছাড়াও অনেকের ক্ষেত্রে ডিম্বস্ফোটনের সময় হালকা রক্তপাত হতে পারে।

চক্র ও ডিম্বস্ফোটনের সম্ভাব্য সময়ঃ
পিরিয়ডের ১ম দিন থেকে পরবর্তী পিরিয়দের ১ম দিন পর্যন্ত সময়কে একটা চক্র বলে।চক্র সাধারণতঃ ২৮-৩২ দিন হয়।তবে তা এর চেয়ে কম ও ক্ষেত্রবিশেষে বেশি (এমনকি ৪২ দিন পর্যন্ত) হতে পারে।চক্র দুই ধাপে সম্পন্ন হয়।

১। Follicular phase: চক্রের প্রথম দিন থেকে ডিম্বস্ফোটনের দিন পর্যন্ত সময়।ব্যাক্তিবিশেষে এটা ৭ দিন থেকে ৩০ দিন হতে পারে।
২। Luteal phase : ডিম্বস্ফোটনের দিন থেকে পরবর্তী পিরিয়ডের আগ পর্যন্ত সময়।এটা সাধারনত ১২-১৬ দিন স্থায়ী হয়।ডিম্বস্ফোটনের সময়ই নির্ধারন করে পরবর্তী পিরিয়ড কখন শুরু হবে ।

অর্থাৎ বোঝা যাচ্ছে চক্রের ফলিকুলার ফেজ অনির্দিষ্ট হলেও লুটিয়াল ফেজ অনেকটা সুনির্দিষ্ট এবং তা থেকে আমরা ডিম্বস্ফোটোনের সময় অনুমান করতে পারি।কারো চক্র যদি ৩২ দিন হয় তাহলে আমরা বলতে পারি তার ডিম্বস্ফোটন হবে ৩২-১৬=১৬ থেকে ৩২-১২=২০ তম দিনের মধ্যে।

চক্র কিভাবে কাজ করেঃ
যখন মাসিক শুরু হয় তখন ইস্ট্রোজেন লেভেল কম থাকে। হাইপোথ্যালামাস (যা হরমোনের লেভেল নিয়ন্ত্রন করে) তখন পিটুইটারি গ্ল্যান্ডকে উদ্দীপ্ত করে এবং তা তখন Follicle Stimulating Hormone (FSH) নির্গত করে যা পরিণত ডিম গঠনের জন্য ফলিকল তৈরিতে সহায়তা করে।ডিম পরিণত হলে ইস্ট্রোজেন লেভেল বেড়ে যায় যা হাইপোথ্যালামাস ও পিটুইটারি গ্ল্যান্ডকে তখন এ সংকেত পাঠায়।
এরপর ল্যুটেনাইজিং হরমোন নির্গত হয় এবং তখন পরিণত ডিম ডিম্বাশয় হতে বের হয়ে নিষিক্ত হবার জন্য ফেলফিয়ান নালিকা দিয়ে নিচের দিকে অগ্রসর হয়।আর তখন প্রোজেস্টেরন হরমোন নির্গত হয় যা ভ্রূন ধারনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং জরায়ুর প্রাচীরকে পুরু করে তোলে। ডিম্বানু পরিস্ফোটনের পর ও ১২-১৬ দিন পর্যন্ত প্রোজেস্টেরন হরমোন নির্গত হয় । এমনকি যদি ডিম্বানু নিষিক্ত হয়েও যায় তাও প্রোজেস্টেরন হরমোন নির্গত হয় প্ল্যাসেন্টা গঠন এর আগ পর্যন্ত। ডিম্বানু নিষিক্ত হলে এর ১ সপ্তাহ পরপরই তার লক্ষন শরীরে ফুটে উঠে। ডিম্বানু নিষিক্ত না হলে তার ভগ্নাংশ শরীর হতে স্রাব আকারে বেরিয়ে যায়।প্রোজেস্টেরন হরমোন নির্গত হওয়া বন্ধ হয়ে গেলে জরায়ুর প্রাচীর ক্ষয়ে পড়তে থাকে এবং তখন মাসিক (menstrual cycle) শুরু হয়। এবং প্রতিমাসে এই ঘটনাই চক্রাকারে পুনারাবৃত্ত হতে থাকে।

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *