স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে চার লাখ ‘বর্জ্যজীবী’

দেশে নারী ও শিশুসহ ‘বর্জ্যজীবী’ পেশার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে ৪ লাখ মানুষ। এই পেশায় নিয়োজিতরা প্রায় সবাই স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশে পরিবেশ ও সবুজ অর্থনীতিতে অপ্রতিষ্ঠানিক বর্জ্যজীবীরা অসামান্য অবদান রাখা সত্ত্বেও তাদের এই অবদান আইনগতভাবে স্বীকৃত নয়, ফলে সরকার বা সমাজ তাদের এই অবদানের কথা স্বীকার করে না। তাই এ বিষয়ে অবিলম্বে আইন প্রনয়ণের মাধ্যমে পেশার আইনি স্বীকৃতি জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিজ্ঞজনেরা।

পৌর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আইনি কাঠামো ও অপ্রাতিষ্ঠানিক বর্জ্য শ্রমিকদের আইনি স্বীকৃতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলে। গত সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে গ্রামবাংলা উন্নয়ন কমিটি এবং বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরামের যৌথ উদ্যোগে এই সভা আয়োজন করা হয়।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গ্রামবাংলা উন্নয়ন কমিটির নির্বাহী পরিচালক এ কে এম মাকসুদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরামের মহাসচিব খায়রুজ্জামান কামাল। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গ্রামবাংলার রিয়াজ রহমান, সাইমা সাঈদ, সাংবাদিক তৌহিদুর রহমান, জাকির হোসেন, আবুল কাশেম, বর্জ্য সংগ্রহকারী শ্রমিক তৃণা ও মরিয়ম প্রমুখ।

বক্তরা বলেন, দেশে পৌরবর্জ্য আসে মূলত গৃহস্থালি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, কারখানা এবং বিভিন্ন ধরনের নির্মাণ সাইট থেকে। যদিও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু ঢাকা শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার খুব ভালো ব্যবস্থা এখনও গড়ে ওঠেনি। বর্জ্য এখনো যত্রতত্র ফেলার অভ্যাস শহরবাসীর যায়নি কিংবা বর্জ্য সঠিকভাবে ফেলার পদ্ধতিও শহরবাসী বিশেষত বস্তিবাসী খুঁজে পায়নি। সঠিক উপায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে দেশের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির সম্মুখীন।

আলোচনা সভায় জাননো হয়, প্রতি বছর বর্জ্যজীবীদের মাধ্যমে সংগ্রহীত লেড-এসিড ব্যাটারির পুনঃচক্রায়ণের ফলে প্রায় ৩৪২০ টন লেড পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়, যার আমদানি মূল্য ৩৭ কোটি টাকা। সমাজ ও অর্থনীতিতে বর্জ্যজীবীদের এই অসামান্য অবদান মূলত অদৃশ্যই থেকে যায়।

২০০৫ সালে বাংলাদেশ প্লাস্টিক সামগ্রী উত্পাদনের জন্য বর্জ্যজীবীদের দ্বারা পুনঃচক্রায়িত ২৬৩,০০০ টন রেজিন বা প্লাস্টিক তৈরির কাঁচামাল ব্যবহার করে যার আমদানিমূল্য ৪০৫ মিলিয়ন ডলার (৩ হাজার ২৪০ কোটি টাকা)। বর্জ্যজীবীদের সংগ্রহীত তৈরি পোশাক শিল্পকারখানার বর্জ্যের (ঝুট) বাজারমূল্য ২০০০ কোটি টাকারও বেশি। মানুষ ও পরিবেশের জন্য বর্জ্যের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণেই এখন আইন করে নিয়ন্ত্রিতভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা এবং পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *