হার্ট অ্যাটাক সম্পর্কে কিছু কথা !

এটা একটি অতি পরিচিত অসুখ আমাদের কাছে। আসুন আমরা আজকে কিছু জানি এর সম্পর্কে।

হার্ট অ্যাটাক কি?
হৃদপিণ্ডের কোন অংশে যেমন তার মাসলে যদি অক্সিজেন পূর্ণ রক্ত সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয় তখন এই সমস্যা দেখা যায়। এবং যদি যথাযথ সময়ে পুনরায় রক্ত চলাচল স্বাভাবিক না করা যায় তাহলে হৃদপিণ্ডের ঐ অংশ সম্পূর্ণ অকেজো ও মৃত হয়ে যায়।

কারা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকেন?
১ ধূমপায়ী
২ উচ্চ রক্তচাপ
৩ রক্তে উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল
৪ দেহের অধিক ওজন অর্থাৎ স্থুলকায়তা
৫ ফ্যাট ও কোলেস্টেরল যুক্ত এবং তেল চর্বি জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া
৬ শারীরিক পরিশ্রম এর অভাব
৭ ডায়াবেটিস
৮ ইনসুলিন জনিত সমস্যার কারনে রক্তে যদি চিনির পরিমাণ বেশি থাকে

উপরোক্ত বিষয়গুলো পরিবর্তন করা সম্ভব। অপরিবর্তনীয় ঝুকির কারন হল বয়স ও পরিবারের অন্য সদস্যদের হার্ট অ্যাটাক হবার ইতিহাস এবং গর্ভবতী অবস্থায় যদি উচ্চ রক্তচাপ থাকে যাকে “প্রিএক্লাম্পসিয়া” বলা হয়।

উপসর্গ?
সবার জন্য একই রকম উপসর্গ নাও হতে পারে। অনেক সময় কোন রকম কোন উপসর্গ ছাড়াই হার্ট অ্যাটাক হয়। গবেষণায় দেখা গেছে ৩ জনের মধ্যে একজনের “Silent heart attack” হয়। তারপরেও সাধারণত যেসব উপসর্গ দেখা যায় তা নিম্নরুপ;

১ বুক ব্যাথা- চাপ চাপ ব্যাথা বা এর আগে বুক ব্যাথা অন্য কোন কারনে থাকলে তার পরিবর্তন হওয়া এবং অন্যধরনের ব্যাথা অনুভুত হওয়া। ব্যাথা এক নাগাড়ে নাও হতে পারে, স্থায়িত্বকাল কিছু মিনিট হতে কয়েক ঘণ্টাও হতে পারে। ব্যাথার তীব্রতা কম বা অনেক বেশিও হতে পারে। অনেক সময় পেট এ গ্যাস হলে যেমন ব্যাথা হয় এখানেও তেমন ব্যাথা হতে পারে।
২ শরীরের উপরের অংশে অস্বস্তিকর অনুভুতি হওয়া। এটা দুই হাত বা যে কোন এক হাতে হতে পারে। এছাড়া পিঠে, ঘাড়ে, মুখের চোয়ালে, পেটের উপরের অংশে ব্যাথা হতে পারে।
৩ বুক ব্যাথার সাথে সাথে বা তার আগে থেকেই শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়া।
৪ বমি বমি ভাব হওয়া
৫ ঘুমের সমস্যা হওয়া, তেমন কোন পরিশ্রম ছাড়াই ক্লান্ত লাগা।
এবং এই সকল উপসর্গ ১ দিনেও হতে পারে আবার অনেক সময় ১ সপ্তাহও লেগে যেতে পারে। এবং সবার উপসর্গ এক রকম নয় তাই বুকে ব্যাথা হবার সাথে সাথেই উচিৎ সাবধান হওয়া।


হার্ট অ্যাটাক হবার সাথে সাথে যা করনীয়?
হাসপাতালে অবশ্যই যোগাযোগ করবেন বা একজন ডাক্তারের সাথে কথা বলবেন। তবে যদি মনে হয় যে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে নিচের ব্যাবস্থা গুলো বাসায় বসেই নিতে পারেন-
১ অক্সিজেন নেওয়া
২ অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট খাওয়া
৩ নাইট্রোগ্লিসারিন স্প্রে নেয়া
৪ বুকের ব্যাথার জন্য ব্যাবস্থা নেয়া
৫ উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা কমানোর জন্য ওষুধ খাওয়া
এগুলো করতে করতে হাসপাতালে চলে যাবার পরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হবে।

হার্ট অ্যাটাক একবার হয়ে যাবার পর করনীয়?
১ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া ও সুস্থ জীবন যাপনের অভ্যাস গড়ে তোলা। শাকসবজি, ফলমূল বেশি করে খাওয়া।
২ ধূমপান সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করা
৩ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রনে রাখা
৪ প্রতিদিন কিছু পরিমাণ হাঁটাহাঁটি ও ব্যায়াম করা।
এবং এই একই কাজ গুলো করে আপনি এখন থেকেই হার্ট অ্যাটাক হওয়া প্রতিরোধ করতে পারেন।
আশা করি আপনাদের সহজ কথায় কিছুটা বুঝাতে পেরেছি। অনেক ধন্যবাদ আপনাদের সবাইকে।
-ডাঃ নাজিয়া হক অনি

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *