16. এনজিওগ্রাম কি? কেন!

এনজিওগ্রাম এমন একটি পরীক্ষা যার মাধ্যমে শরীরের ধমনী ও শিরা গুলোকে পরোক্ষ ভাবে দেখা যায়। পরোক্ষ ভাবে বলা হচ্ছে এই কারনে যে ধমনী ও শিরা প্রত্যক্ষ ভাবে দেখবার ও সুযোগ রয়েছে। প্রচলিত অর্থে আমরা Angiogram বলতে যা বুঝি তা হলো এক্সরের মাধ্যমে শরীরের ধমনী গুলোকে দেখা। রোগ নির্ণয়ে সচরাচর এনজিওগ্রাম করে শিরা দেখা হয়না, হলে সেটাকে বলে ভেনোগ্রাম (Venogram)।

এনজিও গ্রাম
এনজিও গ্রাম

এমনিতে সবার কাছে এনজিওগ্রাম মানেই হলো হার্টের রোগ নির্নয়ের একটি পরীক্ষা, ঠিকই আছে হার্টে ইশকেমিক হার্ট ডিজিজ হলে এনজিওগ্রাম পরীক্ষাটি করানো লাগতে পারে তবে তাকে বলে করোনারি এনজিওগ্রাম (CAG – coronary angiogram)। করোনারি এনজিওগ্রাম করে হৃদপিন্ডের ধমনী সরু হয়ে গেছে কিনা বা এতে কোনো block আছে কিনা তা দেখা হয়।

অনেকেরই ধারনা করোনারি এনজিওগ্রাম পরীক্ষাটি করার জন্য রোগীকে অজ্ঞান করতে হয়। আসলে তেমনটি নয়, এজন্য পায়ের মোটা ধমনী (Femoral artery) বা হাতের ধমনী (Radial artery) তে ক্যাথেটার ঢোকানোর জন্য চামড়ার নীচে লোকাল এনেসথেসিয়া দিয়ে অবস করে নেয়া হয়। এরপর ঐ ক্যাথেটার দিয়ে এক্সরেতে দেখা যায় এমন একধরনের রঞ্জক পদার্থ (Contrast/ dye) হৃদপিন্ডের ধমনীতে প্রবেশ করিয়ে এক্সরে ক্যামেরার মাধ্যমে দেখা হয়। যদি কোথাও কোনো ব্লক থাকে তবে ঐ জায়গা দিয়ে রঞ্জক যেতে পারেনা বা গতি পথ সরু হয়ে যায়।

করোনারি এনজিওগ্রাম করার পর তা সিডি (CD)তে রেকর্ড করে রোগীকে দিয়ে দেয়া হয়। এর উপড় ভিত্তি করে কার্ডিওলজিস্ট এনজিওপ্লাস্টি করেন অথবা কার্ডিয়াক সার্জন বাইপাস অপারেশন করেন। রিপোর্ট স্বাভাবিক হলে রোগীকে এসব প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়না।

হার্ট ছাড়াও অন্য অঙ্গে এনজিওগ্রাম করা হয়ে থাকে যেমন পায়ে করলে তাকে বলে পিএজি (PAG-peripheral angiogram), মস্তিস্কের ক্ষেত্রে সেরিব্রাল এনজিওগ্রাম (Cerebral angiogram), অন্ত্রে করলে মেসেন্ট্রিক এনজিওগ্রাম (Mesentric angiogram), কিডনি তে করলে রেনাল এনজিওগ্রাম (Renal angiogram), গলার ধমনীতে করলে ক্যারোটিড এনজিওগ্রাম (Carotid angiogram) ইত্যাদি।