20. কলিসিস্টেকটমি কি?

অপারেশন করে পিত্তথলি বা গলব্লাডার (Gall bladder) ফেলে দেবার নামই কলিসিস্টেকটমি। আমাদের চারপাশে আমরা সাধারনত পিত্তথলিতে পাথর (Cholelithiasis) হবার কারনেই কলিসিস্টেকটমি অপারেশন করাতে দেখি। এছাড়াও যে কোনো কারনে ক্রনিক কলিসিস্টাইটিস হলে, পিত্তথলির মিউকোসিলি, এমপায়েমা, টিউমার, পলিপ ইত্যাদি রোগ হলেও কলিসিস্টেকটমি করানো লাগতে পারে। অনেক সময় পেটের ভেতর অন্য অপারেশন করার সময় ও কলিসিস্টেকটমি করে দেয়া হতে পারে।

gallbladder
gallbladder

এজন্য রোগীকে পুরোপুরি অজ্ঞান করতে হয়। অপারেশনের ৪-৬ ঘন্টা আগ থেক সব ধরনের খাবার ও পানীয় থেক বিরত থাকতে হয়। পেটের উপড় দিকে, ডান পাশে চামড়া কেটে সাধারনত কলিসিস্টেকটমি করা হয়। তবে আধুনিক বিশ্বে ল্যাপারোস্কপির (Laparoscopy) মাধ্যমেই সর্বাধিক কলিসিস্টেকটমি করা হয়। এ পদ্ধতিতে প্রথমে রোগীর নাভীর ভিতর দিয় একটি সুই ঢুকিয়ে পেটের মধ্যে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস ভরে পেটকে ফুলানো হয়। এর পর ছোটো ৩ টি ফুটো করে ল্যাপারোস্কোপি যন্ত্র, ক্যামেরা/টেলিস্কোপ ইত্যাদি পেটের মধ্যে ঢুকিয়ে টিভি মনিটরে দেখে দেখে কলিসিস্টেকটমি অপারেশন করা হয়। এ পদ্ধতিতে রোগী অপারেশনের পরে দ্রুত বাড়ি চলে যেতে পারে এবং পেটে অপারেশনের কোনো দাগ ও থাকেনা। তবে এর জন্য সার্জনের বিশেষ পারদর্শিতা এবং দক্ষতার প্রয়োজন আছে।

ল্যাপারোস্কোপি করা অবস্থায় জটিলতা দেখা দিলে অনেক সময় পেট খুলে অপারেশন করার প্রয়োজন হতে পারে। তবে দক্ষ সার্জনের ক্ষেত্রে এই কনভার্সনের হার খুব কম। কলিসিস্টেকটমি কোনো ছোটো অপারেশন নয়, ভুল সার্জারি হলে রোগীর জীবন বিপন্ন হতে পারে তাই সবসময় প্রতিষ্ঠিত ও দক্ষ সার্জন দিয়ে এই অপারেশন করানো উচিত। হেপাটোবিলিয়ারি সার্জনরা (Hepato biliary surgeon) পিত্তথলি ও পিত্তনালীর যে কোনো সার্জারীতে সর্বোচ্চ দখল রাখেন।