9. আলট্রাসনোগ্রাফি কি? ও কেন

মানুষের শ্রবণসীমার বাইরের কম্পাংকের শব্দ তরঙ্গের মাধ্যমে শরীরের ভেতরের ছবি নেয়ার পদ্ধতি হচ্ছে আলট্রাসনোগ্রাফি। সাধারণত ২ থেকে ১৮ মেগাহার্জ কম্পাংকের শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করা হয় আলট্রাসনোগ্রাফিতে। এখন পর্যন্ত আলট্রাসনোগ্রাফিকে একটি নিরাপদ পরীক্ষা বলে মনে করা হয়। অর্থাৎ এক্স-রে এর মত কোন ক্ষতিকর প্রভাব নেই।

ultrasound
ultrasound

কখন করা হয়

ব্যথা, ফোলা, সংক্রামণ, প্রস্রাবে রক্ত নির্গত হওয়া, গর্ভাবস্থায় ভ্রুণ বা শিশুর অবস্থা পর্যবেক্ষণসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে আলট্রাসনোগ্রাম করা হতে পারে। বায়োপসির জন্য গাইড হিসেবেও আলট্রাসনোগ্রাফির সাহায্য নেয়া হয়।

ডপলার আলট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে রক্তনালীতে ব্লক, সংকোচন, টিউমার বা অন্য কোন সমস্যা থাকলে সেটাও চিহ্নিত করা যায়।

প্রস্তুতি

আরামদায়ক ঢিলেঢালা পোশাক পরে পরীক্ষার জন্য যাওয়া ভালো। কিছু পরীক্ষার  ১২ ঘন্টা আগে থেকে খেতে বারণ করা হয়। আবার কিছু পরীক্ষার দু’ঘন্টা আগে পর্যাপ্ত পানি পান করে মূত্রথলি পূর্ণ রাখতে বলা হতে পারে। সাধারণত পরীক্ষার স্থান থেকে পোশাক এবং অলংকার অপসারণের প্রয়োজন হয়।

প্রক্রিয়া

রোগীর শরীরের যে অংশে আলট্রাসনোগ্রাম করা হবে সেখানে এক ধরনের জেল লাগানো হয়। একটি ট্রান্সডিউসার একই সাথে শব্দ তরঙ্গ তৈরি করে এবং প্রতিফলিত হয়ে আসা শব্দ গ্রহণ করে। প্রতিধ্বনিত শব্দতরঙ্গ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আকার ও দূরত্ব নির্ণয় করা যায়। একটি মনিটরে ছবি প্রদর্শিত হয় এবং প্রয়োজনে প্রিন্ট নেয়া হয়।

৩ডি ও ৪ডি

আলট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে ত্রিমাত্রিক ছবি নেয়া হলে সেটাকে ৩ডি বলা হয়। আর গতিশীল ছবি অর্থাৎ চতুর্থ মাত্রা হিসেবে সময় থাকলে সেটা ৪ডি আলট্রাসনোগ্রাফি।

ডপলার আলট্রাসাউন্ড

শব্দ তরঙ্গের ডপলার ইফেক্ট ব্যবহার করে রক্তপ্রবাহের দিক এবং গতি নির্ণয় করার পদ্ধতি হচ্ছে ডপলার আলট্রা সাউন্ড। একই ট্রান্সডিউসার ব্যবহারের মাধ্যমে এটি করা হয়।

সীমাবদ্ধতা

  • বায়ুর উপস্থিতি আলট্রাসনোগ্রাফিতে বাধা দেয়। এ কারণে সবক্ষেত্রে আলট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে রোগ নির্ণয় সম্ভব হয় না। এক্স-রে করতে হয়।
  • হাড়ের ভেতরের চিত্র নেবার জন্য এমআরআই করতে হয়।