1. MRI কি? এটি কিভাবে কাজ করে?

MRI machine এর পুরো নাম হচ্ছে Magnetic Resonance Imaging machine.এটায় একটা চেম্বার থাকে যাতে রোগীকে ঢোকানো হয়।চেম্বারটার ছবি দেখলে বোঝা যায় যে ডায়ামিটার খুব বেশি না অর্থাৎ রোগীর নাড়াচাড়ার জন্য খুব বেশি জায়গা ভেতরে থাকেনা।

MRI machine
MRI machine

এখন দেখা যাক ম্যাশিনটার ভেতরে কি থাকে।মেশিনটার প্রধান ম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি করার জন্য থাকে প্রধান ম্যাগনেটিক কয়েল।এর মধ্য দিয়ে যখন ইলেকট্রিসিটি পাস করে তখন এটা চুম্বকক্ষেত্র তৈরি করে।এই চুম্বক ক্ষেত্রের মান হয় ৫০০০-২০০০০ gauss যেখানে পৃথীবির ভূচুম্বকক্ষেত্রের মান মাত্র ০.5 gauss।এ বিশাল পরিমান চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে রোগীর দেহে বিদ্যমান হাইড্রোজেন পরমাণুর(মানুষের দেহে ৭০% পানি থাকে যাতে হাইড্রোজেন বিদ্যমান এবং জৈব যৌগ মানেই হাইড্রোজেনের কোন অভাব নেই)  ওরিয়েন্টশন পরিবর্তিত হয় অর্থাৎ কিছু পরমাণু ম্যাগনেটিক ফিল্ড বরাবর এবং কিছু পরমাণু ঠিক তার উল্টোদিক বরাবর alligned হয়ে যায়।যেসব পরমাণু ম্যাগনেটিক ফিল্ড বরাবর alligned হয় তাদের আমরা নিম্ন শক্তি বিশিষ্ট ও যেসব পরমাণু উল্টোদিক বরাবর alligned হয় তাদের উচ্চশক্তি বিশিষ্ট পরমাণু বলা যায়।কারণ ম্যাগনেটিক ফিল্ডের বিপরীতে অবস্থান নিতে অবশ্যি শক্তির প্রয়োজন বেশি।দুই বিপরীত দিকে alligned হওয়া পরমাণুর সংখ্যা সমান হয়না।ম্যাগনেটিক ফিল্ড বরাবর alligned হওয়া পরমাণুর সংখ্যাই বেশি থাকে।

এই কম শক্তি বিশিষ্ট পরমাণুগুলোকে একটি নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সির তরঙ্গ পাঠিয়ে উত্তেজিত করা যায়।এই ফ্রিকোয়েন্সিকে বলা হয় রেসোনেটিং ফ্রিকোয়েন্সি।এর মান নির্ভর করে যে স্থানের ছবি আমরা চাই সে স্থানে কি পরিমাণ ম্যাগনেটিক ফিল্ড আছে তার উপর।রোগীর দেহের সমস্ত অংশই কিন্ত একই ম্যাগনেটিক ফিল্ডে থাকেনা।machine এর মধ্যে এক এক স্থানে এক এক রকম ম্যাগনেটিক ফিল্ড সৃষ্টি করা হয় gradient কয়েলের মাধ্যমে।

ব্যাপারটা আরেকটু ব্যাখ্যা করা যাক।ধরা যাক আমাদের দরকার রোগীর মাথার কোন একটা অংশের ছবি অর্থাৎ পুরো শরীরে বিদ্যমান সব হাইড্রোজেন পরমাণুকে উত্তেজিত না করে শুধু ঐ অংশে করলেই চলবে। ধরা যাক,মাথার অংশে বিদ্যমান ফিল্ড ১০০০০ gauss এবং ঐ অংশের resonating ফ্রিকোয়েন্সি ৭০ মেগাহার্য।তাহলে ৭০ মেগাহার্য ফ্রিকোয়েন্সির তরঙ্গ আমাদের পাঠাতে হবে।তাহলে শুধু ঐ অংশের হাইড্রোজেন পরমাণু উত্তেজিত হবে।যে অংশের ছবি আমাদের দরকার নেই সে অংশের হাইড্রোজেন পরমাণু উত্তেজিত হবেনা। এই তরঙ্গের পাল্লা রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির পাল্লার মধ্যে থাকে।যখন পরমাণু উত্তেজিত হয় তখন তাদের শক্তি বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ তাদের allignment change হয়ে যায়।তারা ম্যাগনেটিক ফিল্ডের বিপরীত দিকে alligned হয়।যেই না রেডিও ওয়েভ পাঠানো বন্ধ করা হয় সাথে সাথে তারা আবার পূর্বের অবস্থায় ফেরত আসে।আসার সময় তারা শক্তি বিকিরণ করে।এই বিকিরণকে গ্রহণ করার জন্য কখনো আলাদা কয়েল থাকে, কখনো যে কয়েলটা দিয়ে রেডিও ওয়েভ পাঠানো হয় সেটাই রিসিপ্টরের কাজ করে।

এই গৃহিত বিকিরণকে কম্পিউটারের সাহায্যে ছবিতে রূপান্তর করা হয়।যে প্রসেসে কম্পিঊটার এই কাজ করে তাকে বলে imaging।

এর মাধ্যমেই আমরা কোন স্থানের ছবি পেয়ে থাকি ঐ স্থানে কোন অস্ত্রোপচার ছাড়াই!ভাঙ্গা হাঁড় দেখার জন্য এক্সরে বেশ ভাল কাজ করলেও নরম কিছু যেমন ব্রেন টিউমার, পেশীর কোন সমস্যা ইত্যাদি সম্পর্কে নিশ্চিত হবার জন্য MRI machine খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্ভাবন।